মঙ্গলবার, ২০শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ ৪ঠা কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

দফায় দফায় বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি : ঘুরে দাঁড়াতে পারছেন না রংপুর অঞ্চলের কৃষকরা

news-image

রংপুর ব্যুরো : এবার বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কৃষিজমির। বারবার চেষ্টা করেও এ ক্ষতি থেকে ঘুরে দাঁড়াতে পারছেন না রংপুর অঞ্চলের কৃষকরা। এ নিয়ে চতুর্থ দফায় বন্যার শিকার হলেন তারা। গত আগস্ট মাসে বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর অনেক কৃষক তাদের জেগে ওঠা জমিতে, ধান, তিল, বাদাম, মাসকলাই, শাকসবজি আবাদ করেছেন। তবে গত ৩-৪ দিন ধরে ধরলা, বক্ষ্রপুত্র, তিস্তা, ঘাঘট, দুধকুমার, করতোয়াসহ বিভিন্ন নদীতে পানি বাড়তে থাকে। ফলে ফের ডুবেছে কৃষকের ফসল। একের পর এক বন্যায় ফসল হারিয়ে চরাঞ্চলের কৃষক এখন সর্বস্বান্ত হওয়ার পথে।

এ দিকে কৃষি বিভাগ প্রণোদনার মাধ্যমে ক্ষতি পোষানোর কথা জোর দিয়ে বললেও বিষয়টি জানেনই না অনেক ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক। এমনকি এত দুর্যোগে কৃষকের কাছেও যায়নি মাঠ বিভাগের কৃষি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

জানা গেছে, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারীসহ রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলার নদ-নদীতে পানি বেড়েছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় নদীর কূল উপচে চরের জমিতে সদ্য রোপণকৃত আমন ধানের ক্ষেত তলিয়ে গেছে।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দফা বন্যায় রংপুর কৃষি অঞ্চলের পাঁচ জেলায় এবারের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত তালিকাভুক্ত কৃষকের সংখ্যা ১ লাখ ৭২ হাজার ৭৯ জন। পানিতে তলিয়ে যাওয়া ২৫ হাজার ৭৫৯ হেক্টর জমির মধ্যে সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে গেছে ১৪ হাজার ৪৪৬ হেক্টর জমির আবাদ। আর আংশিক ক্ষতি হয়েছে ৯ হাজার ৫০৫ হেক্টরের ফসল।
কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পাট। এ অঞ্চলের ৬ হাজার ৪৪২ দশমিক ৭৭ হেক্টর জমির পাট নষ্ট হয়ে গেছে।

৩৬ হাজার ১৮৩ জন কৃষকের ৪ হাজার ৫৯৭ দশমিক ৬৩ হেক্টর জমির আউশ আবাদ ও ১ হাজার ২৪৪ দশমিক ২ হেক্টর জমির শাকসবজি নষ্ট হয়ে গেছে।

এ ছাড়াও আমনের ১ হাজার ২৬৫ দশমিক ৭৮ হেক্টর জমির বীজতলা, ১১০ দশমিক ৭৪ হেক্টর জমির রোপা আমন, ২৮ দশমিক ৫ হেক্টর জমির ভুট্টা, ২০৫ হেক্টর জমির মরিচ, ৩৭৮ দশমিক ৫ হেক্টর জমির তিল, ৩০ দশমিক ৬ হেক্টর জমির চীনাবাদাম এবং ২০ হেক্টর জমির ১৮ লাখ টাকার কাউনের ফসল পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে।

এদিকে এমন পরিস্থিতিতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে রংপুর অঞ্চলের ৫ জেলার কৃষকরা। বিস্তীর্ণ মাঠে এখন বন্যার দগদগে ক্ষত। নষ্ট হওয়া আমন লাগানো নিয়ে দুশ্চিন্তা সবচেয়ে বেশি। চড়া সুদে টাকা লগ্নি নিলেও মিলছে না বীজ। পেলেও দাম লাগামহীন। হতাশ কৃষকের সামনে এখন ঘনঘোর অন্ধকার। কিভাবে চলবে জীবন, চোখেমুখে অনিশ্চিত জীবন-জীবিকার ছাপ তাদের।

রংপুরের গঙ্গাচড়ার ল²ীটারীর মহিপুরের কৃসক আনারুল ইসলাম জানালেন, বাবা মারা যাওয়ার পর মা, ভাইবোন, ভাগনীসহ সাতজনের সংসারের বোঝা এখন তার ঘাড়ে। এবার চার বিঘা জমিতে লাগিয়েছিলাম। কিন্তু বন্যায় সব শেষ। ১ হাজার টাকা সুদের ওপর নিয়ে কিছু চারা কিনে খোসা দেয়ার চেষ্টা করছি। আরো আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার টাকা লাগবে চারা কিনতে। সুদের ওপর টাকা খুঁজছি। কিন্তু এখনো পাইনি। টাকা পেলেও বাজারে চারা পাওয়া যাচ্ছে না। যদি ধান লাগাতে না পারি তা হলে খাবার নিয়ে খুব সমস্যায় পড়তে হবে।

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার হরিশ্বর গনাই গ্রামের মহসীন আলী বলেন, ‘গত জুলাই আগস্টের বন্যায় ২ বিঘা জমির ধান তলিয়ে যাওয়ায় আমার অনেক ক্ষতি হয়েছে। পানি নেমে যাওয়ার পর এক সপ্তাহ হলো হাওলাত করে টাকা এনে ওই জমিতে আবার ধান রোপণ করেছিলাম। এছাড়া অন্য এক বিঘা জমিতে বেগুন গাছ লাগিয়েছিলাম। কিন্তু তিন দিনে পানি বেড়ে জমিতে সদ্য লাগানো ধান গাছ তলিয়ে গেছে।’

গঙ্গাচড়ার মহিপুর এসকেএস এলাকার কৃষক সাব্বির আলী জানান, মহাজনরাও সুদ দিতে চাইছেন না। কারণ শোধ করতে পারব না। আবাদ শেষ। জমি এবার শুকনায় পড়ে থাকবে।

পীরগাছার তাম্বুলপুরের চরের কৃষক আমজাদ আলী জানান,আমরা জানি না সরকার চারা কিংবা টাকা দিতেছে। বন্যায় সব আবাদ শেষ হয়ে গেল। কৃষি বিভাগের লোকজন কোনো দিন আমাদের কাছে আসেনি। খোঁজও নেয়নি।

লারমনিরহাটের আদিতমারীর কমলাবাড়ি গ্রামের আহমদ আলী বলেন, বন্যায় ফসল সব নষ্ট হলেও এখন পর্যন্ত সরকারি কোনো লোক আমাদের খোঁজ নেয়নি। বীজ বা অন্যান্য জিনিস দেয়া তো দূরের কথা।

রংপুর কৃষি স¤প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ আলী জানান, এবারের বন্যায় দুই দফায় ১ লাখ ৭২ হাজার কৃষক এবং ১৭৩ কোটি টাকার মতো কৃষকদের ক্ষতি হয়েছে। ব্যাপক উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসনের। প্রণোদনার মাধ্যমে কৃষকদের ক্ষতি পোষানোর। আমরা নাভি জাতের আমনের চারা করেছি ১২১ হেক্টর জমিতে। ৫০০টি ভাসমান চারা করেছি। সাড়ে ১০ হাজার কৃষককে শাকসবজির প্যাকেজ দিয়েছি। তিনি আরও জানান, মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের কোনো গাফিলতি থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে।

এ জাতীয় আরও খবর

সিলেটে এমসি কলেজে গণধর্ষণ : আদালতে বিচারিক কমিটির প্রতিবেদন

যাচাই-বাছাই শেষে বাদ পড়বে ৫ থেকে ৭ ভাগ মুক্তিযোদ্ধা

বিএনপির মতো ব্যর্থ বিরোধীদল আর কেউ দেখেনি : কাদের

অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরগুলোতে পর্যাপ্ত লাইটিংয়ের ব্যবস্থা করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

রমেকে নমুনা পরীক্ষায় আরও ৯৪ আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত

অসুস্থতার কারণে পেছাল খালেদা জিয়ার নাইকো মামলায় চার্জগঠনের শুনানি

আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্র ইউনিয়ন কর্মী ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার

এবার আলুর দাম ৩৫ টাকা করল সরকার

সৌদি আরবে ‘ফ্রি ভিসা’র ভয়াবহ ফাঁদ

রংপুরে আলুর দাম বাড়াচ্ছে মজুতদাররা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিভিন্ন প্রকল্পের উপকারভোগীদের মাঝে ঘরের চাবি ও ঋণ বিতরণ

এসআই আকবর বিদেশ পালিয়ে গেলেও তাকে ফিরিয়ে আনা হবে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী