শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ ৩রা আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

বেলারুশের মুসলিম ঐতিহ্য

news-image

অনলাইন ডেস্ক : মধ্য পূর্ব ইউরোপের একটি স্থলবেষ্টিত প্রজাতন্ত্র বেলারুশ। ১৯৯১ সালে স্বাধীন-সার্বভৌম দেশ হিসেবে পৃথিবীর মানচিত্রে আত্মপ্রকাশ করে। রাষ্ট্রপতিশাসিত প্রজাতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থায় বেলারুশ পরিচালিত হয়। দেশটির উত্তরে ও পূর্বে রাশিয়া, দক্ষিণে ইউক্রেন, পশ্চিমে পোল্যান্ড, এবং উত্তর-পশ্চিমে বাল্টিক প্রজাতন্ত্র লিথুনিয়া ও লাটভিয়া। বেলারুশ মূলত অরণ্য (দেশের এক-তৃতীয়াংশ), হ্রদ ও জলাভূমিতে পূর্ণ একটি সমতল ভূমি।

বেলারুশের প্রায় ৯৯ লাখ লোকের ৮০%-ই জাতিগতভাবে বেলারুশীয়। অন্যান্য জাতির মধ্যে পোলিশ, রুশ ও ইউক্রেনীয় উল্লেখযোগ্য। তিন-চতুর্থাংশ জনগণ নগর অঞ্চলে বাস করেন। দেশের মধ্যভাগে অবস্থিত মিনস্ক দেশটির রাজধানী ও বৃহত্তম নগর।

বেলারুশ ও রুশ এখানকার দাপ্তরিক ভাষা। ১৯৯৫ সালের একটি গণভোটের মাধ্যমে রুশ ও বেলারুশ ভাষা দেশের সরকারি ভাষা হিসেবে এ দুইটি স্বীকৃতি লাভ করে। বেলারুশে একটি কেন্দ্রীয়ভাবে পরিকল্পিত অর্থনীতি বিদ্যমান; সরকার নিয়ন্ত্রিত ভারী শিল্পকারখানাগুলো এই অর্থনীতির চালিকাশক্তি। তবে কৃষিও একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত।

রুশ অর্থডক্স খ্রিস্টধর্ম দেশটির প্রধান ধর্ম। ১০ মিলিয়ন জনসংখ্যার প্রায় সবাই-ই খ্রিস্টান ধর্মের অনুসারী। মুসলমানের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ। তবে সংখ্যায় কম হলেও এই জনপদে ইসলামের ইতিহাস ছয়শ বছরের পুরনো। বর্তমানে বেলারুশে ৩০ হাজার মুসলিমের বসবাস। অবশ্য এ সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। প্রতিবেশী দেশ আজারবাইজান, উজবেকিস্তান, তুরস্ক, তুর্কমেনিস্তান থেকে অনেক মুসলিম অভিবাসী বেলারুশে পাড়ি জমাচ্ছেন।

ইসলামের আগমন

চতুর্দশ শতকে বেলারুশে সর্বপ্রথম ইসলামের আগমন ঘটে। তৎকালীন লিথুয়ানিয়া সাম্রাজ্যের গ্র্যান্ড ডিউক গেডিমিনাসের প্রত্যক্ষ সহায়তায় মুসলিমরা এ ভূ-খ-ে পা রাখেন। ইউরোপীয় ক্রুসেডারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়ী হতে তাতারদের সাহায্য চান গ্র্যান্ড ডিউক। তাতাররা তাকে বেশ কয়েকবার ক্রুসেডারদের বিরুদ্ধে সহায়তা করেন। সর্বশেষ ১৪১০ সালে ‘ব্যাটল অব গ্রুনওয়াল্ডে’ তাতারদের সহায়তায় ক্রুসেডারদের সম্পূর্ণরূপে পরাজিত করেন গ্র্যান্ড ডিউক। পুরস্কার হিসেবে তাতার মুসলিমদের বেলারুশে বসতি স্থাপনের অনুমতি দেন তিনি। তখন থেকেই বেলারুশে মুসলমানদের বসবাস।

এসব তাতার মুসলমানরা মূলত ক্রিমিয়া ও ভোলগার মরুভূমি অঞ্চল থেকে এখানে এসেছিলেন। বংশগতভাবে তাতার হলেও তারা নিজেদের ‘বেলারুশ মুসলিম’ হিসেবে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। বেলারুশ ভাষাকে তারা আপন করে নিয়েছিলেন এবং এ ভাষাতেই কথা বলতেন। তবে মুসলিম হিসেবে নিজেদের স্বাতন্ত্র্য ধরে রাখতে আরবি বর্ণমালায় বেলারুশ ভাষা লিখতে শুরু করেন। এভাবেই বেলারুশ ভাষার আরবি সংস্করণের সৃষ্টি হয়।

সোভিয়েত আমল

রুশ সাম্রাজ্যের অধীনে ১৯১৭ সাল পর্যন্ত বেলারুশের মুসলিমরা স্বাধীন জীবনযাপন করতেন। তবে সোভিয়েত ইউনিয়ন গঠনের পর বেলারুশেও কমিউনিস্ট শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। নিষিদ্ধ হয় সব ধরনের ধর্মীয় কার্যক্রম। ফলে মুসলমানদের মসজিদ-মাদ্রাসাও বন্ধ হয়ে যায়। প্রকাশ্যে ধর্মচর্চার অধিকার হারায় তারা। মুসলিম-স্থাপনা ও সড়কের নাম পাল্টে দেওয়া হয়। তাতার আমলের স্মৃতি মুছে দেওয়ার সব চেষ্টাই করা হয়েছে তখন। একটি মাত্র মসজিদের কথা জানা যায়, যেটি সোভিয়েত আমলেও অক্ষত ছিল। ১৮৮২ সালে নির্মিত পশ্চিমাঞ্চলীয় ইভজে শহরে মসজিদটি অবস্থিত।

দীর্ঘ সাত দশক পর, ১৯৮৬ সালে পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়। সোভিয়েত ইউনিয়নের আধুনিকায়নে মিখাইল গর্বাচেভ ‘পেরেস্ত্রোইকা’ আইন প্রবর্তন করেন। ধর্মীয় বিষয়ে উদারনীতি গ্রহণ করা হয়। মুসলমানরা ফিরে পায় ধর্মীয় স্বাধীনতা। কংগ্রেসে পাস হয় সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন। ফিরিয়ে দেওয়া হয় অনেক পুরনো মসজিদ। ফলে মুসলিমরা ধর্মীয় ব্যানারে সংঘটিত হওয়ার সুযোগ লাভ করে।

মুসলিম কমিউনিটি

১৯৮৯ সালে মিনস্ক ও গ্রোডনোতে সর্বপ্রথম মুসলিমরা সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করে। এরই সূত্র ধরে ১৯৯১ সালে ‘আল-কিতাব’ নামে মুসলমানদের এক শক্তিশালী সংগঠন প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘দ্য মুসলিম রিলিজিয়াস অ্যাসোসিয়েশন অব রিপাবলিক অব বেলারুশ’ নামে আরও একটি সংগঠন। মূলত এ দুটি সংগঠনই বেলারুশের মুসলিম কমিউনিটির নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। বর্তমানে এখানে ত্রিশটি নিবন্ধিত মুসলিম কমিউনিটি রয়েছে। এক

তৃতীয়াংশ কমিউনিটির রয়েছে নিজস্ব মসজিদ। ধর্মীয় সমাবেশ ও ঈদ উদযাপনের জন্য রয়েছে কেন্দ্রীয় মসজিদ কমপ্লেক্স। অধিকাংশ মসজিদই বিশ শতকের শেষের দিকে তৈরিকৃত।

অন্য দশজন বেলারুশ নাগরিকদের মতো মুসলিমরাও এখানে সব পেশায় অংশগ্রহণ করে। তাদের ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার ও সেনাবাহিনীর অফিসার থেকে নিয়ে শ্রমিক-মজুরও রয়েছে। তবে প্রায় সংখ্যক মুসলমানই কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে।

বেলারুশে মুসলমানরা পুরোপুরি ধর্মীয় স্বাধীনতা ভোগ করছে। মসজিদ নির্মাণ, ধর্মীয় সমাবেশ, নামাজ আদায় এবং হিজাব পরার ক্ষেত্রে কোনো বিধিনিষেধ নেই। রাজধানী মিনস্কে হালাল শপও আছে বেশ কয়েকটি। তবে গ্রামাঞ্চলে হালাল খাবার নিজেদেরই জোগাড় করতে হয়।

প্রাণকেন্দ্র ইভজে

বেলারুশের পশ্চিমে অবস্থিত ইভজে শহরেই বেলারুশের অধিকাংশ মুসলিম বসবাস করে। কারণ প্রাচীন ডিউক এখানেই অবস্থান করতেন এবং তাতার মুসলিমরা এখানে আবাস গড়েছিলেন। তখন থেকেই ইভজের কেন্দ্রীয় মসজিদটি মুসলমানদের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। দ্বিতীয় বিশ^যুদ্ধের আগে এই শহরে একটি মাদ্রাসাও ছিল, যেখানে মুসলিম সন্তানরা কোরআন শিক্ষা ও ইসলামি জ্ঞানের মৌলিক পাঠ গ্রহণ করত।

এই ছোট্ট শহরটি বেলারুশে ধর্মীয় সম্প্রীতির অনন্য উদাহরণ। এখানে অর্থোডক্স, ক্যাথলিক, ইহুদি ও মুসলিমরা মিলেমিশে বসবাস করে। শত বছর ধরে তারা এখানে শান্তি, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ নিয়ে জীবনযাপন করছে।

মিনস্কের কেন্দ্রীয় মসজিদ

উনিশ শতকের শেষের দিকে মিনস্কে পাকা মসজিদ নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তৎকালীন কেন্দ্রীয় মসজিদটি ১৯০০ সাল থেকে ১৯০২ সালের মধ্যে নির্মিত হয়। নির্মাণের ষাট বছর পর মসজিদটি ধ্বংস করা হয়। সেই ধ্বংসপ্রাপ্ত মসজিদের আদলেই মিনস্কের বর্তমান কেন্দ্রীয় মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। প্রায় ১ হাজার লোক তাতে একসঙ্গে নামাজ পড়তে পারে। মসজিদের একটি অংশে জাদুঘরও রয়েছে। ২০১৬ সালে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান ও বেলারুশ প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো যৌথভাবে মসজিদটি উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধনকালে প্রেসিডেন্ট লুকাশেঙ্কো এরদোয়ানের সঙ্গে নামাজের কাতারে দাঁড়িয়েছিলেন। তখন বিষয়টি ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। লুকাশেঙ্কোর ইসলামগ্রহণের গুজবও ছড়িয়েছিল। অবশ্য মুসলিম বিশে^র বিভিন্ন দেশের সঙ্গে তার সখ্য নতুন কিছু নয়। মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশের সঙ্গেই বেলারুশের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে।

স্থাপত্যরীতি

বেলারুশের অধিকাংশ মসজিদই কাঠের তৈরি। খুবই সাদামাটা কাঠামোতে মসজিদগুলো নির্মাণ করা হয়। তেমন কোনো সাজসজ্জা ও ডিজাইন-অলংকরণ নেই বললেই চলে। পুরুষ ও নারীদের জন্য আলাদা নামাজঘর এবং পাঠকক্ষসহ মোট তিনটি কক্ষ থাকে এখানে। দেখতে অনেকটা স্থানীয় অর্থোডক্স চার্চের ‘বেল টাওয়ার’ এর আদলে তৈরি মিনারও দেখা যায় মসজিদগুলোতে।

এখানকার মুসলিমরা সাধারণত সবুজ বাগানের মাঝখানে তাদের থাকার ঘরটি নির্মাণ করে। বাগানে টমেটোর চাষ করা হয়। এখানে টমেটোর ফলন বেশ ভালোই হয়। রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যবসায়ীরা এখানে এসে সস্তা দামে টমেটো কিনে নিয়ে যায়।

শিক্ষা ও সংস্কৃতি

বেলারুশে এক সময় অনেক ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিল। তবে বর্তমানে ইসলামশিক্ষার আলাদা কোনো প্রতিষ্ঠান নেই। মসজিদেই ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া হয়। ছুটির দিনগুলোতে আগ্রহী মুসলিমরা এখানে এসে ইমাম সাহেবের কাছ থেকে কোরআন-হাদিস, আরবি ব্যাকরণ এবং ইসলামশিক্ষার পাঠ গ্রহণ করে।

ইমাম সাহেবকে মুসলিমদের মাথার মুকুট হিসেবে গণ্য করা হয়। বয়সের ভারে ন্যুজ হয়ে গেলে ইমাম সাহেব স্বেচ্ছায় অবসর নিয়ে নেন। এরপর সবার মতামতের ভিত্তিতে যোগ্যতম ব্যক্তিকেই নতুন ইমাম নিয়োগ দেওয়া হয়।

রোজা ও কোরবানির ঈদসহ ধর্মীয় উৎসবগুলো তারা একত্রে উৎযাপন করে। মুসলিম ঐতিহ্য অনুসারে সেদিন সবার মধ্যে ঐতিহ্যবাহী তাতারি খাবার বিতরণ করা হয়। প্রবীণ ও শ্রদ্ধাভাজনদের কাছে পেশ করা হয় উপহার-উপঢৌকন। আতিথেয়তা বেলারুশীয় মুসলমানদের স্বভাবজাত। যে কারও ঘরে গিয়ে নক করলেই তারা আপনাকে উষ্ণ সম্ভাষণে আমন্ত্রণ জানাবে।

যুগের পরিক্রমায় মুসলিমদের আচার-আচরণ ও কৃষ্টি-কালচারে বেশ পরিবর্তন এসেছে। সোভিয়েত আমলে অনেকটা তারা বেলারুশ সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে গিয়েছিল। তবে কিছু কিছু পার্থক্য এখনো দৃশ্যমান। যেমন বিয়ের সময় আকদ পর্বটি তারা মসজিদেই করে। ইমাম সাহেব তাদের আকদ পড়িয়ে দেন, স্বামী-স্ত্রীর দায়িত্ব-কর্তব্য ও অধিকার নিয়ে কথা বলেন, তাদের জন্য দোয়া করেন এবং মেরেজ সার্টিফিকেটে সাক্ষর নেন।

সাধারণ বেলারুশিয়ানদের সঙ্গে মুসলিমদের বিয়ে এখানে হরহামেশাই ঘটছে। তবুও বেলারুশ সংস্কৃতিতে তারা বিলীন হয়ে গেছে বলা কঠিন। নিজেদের সংস্কৃতি রক্ষায় তারা সচেতনতার সাক্ষর রাখছে।

বেলারুশ মুসলিমদের ধর্মনেতা ও প্রধান মুফতি আলি ফুরোনোফেতিশ গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘বেলারুশের মুসলমানরা মুসলিম দাতব্য সংস্থাগুলোর সহায়তার মুখাপেক্ষী। বিশেষ করে মুসলিম গণমাধ্যমগুলোকে আমাদের জন্য অবদান রাখতে হবে। মুসলিমবিশে^র খুব কম লোকই আমাদের সম্পর্কে ধারণা রাখে। আমরা বিশে^র বিভিন্ন দেশে অনুষ্ঠেয় আন্তর্জাতিক সভা-সেমিনারগুলোতে অংশ নিতে চাই। তাছাড়া মুসলিম কৃষ্টি-কালচার ধরে রাখতে এখানে দাওয়াতি কার্যক্রমের বড়ই অভাব। তাই বেলারুশের মুসলিমনেতা হিসেবে আমি মুসলিমবিশে^র দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’ দেশ রূপান্তর

এ জাতীয় আরও খবর

১০৯টি স্মার্ট শহরের তালিকায় নেই ঢাকাসহ বাংলাদেশের কোনো নগরী

করোনা হয়েছে, মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্রেমিকার কাছে পলায়ন

ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিপাকে ঝুঁকি নিয়েই চলছে পদ্মা-মেঘনার নৌযান

নভেম্বরের শুরুতে প্রাইমারি খুলবে ধরে নিয়ে পাঠ পরিকল্পনা

নেশার টাকা না পেয়ে শ্বশুর-শাশুড়ি, স্ত্রীসহ চারজনকে কুপিয়ে আহত

শারীরিক অবস্থার অবনতি অ্যাটর্নি জেনারেল, আইসিউতে ভর্তি

রাজধানীর বনানীতে আবাসিক ফ্ল্যাটে আগুন

করোনায় মৃত্যুর মিছিলে সাড়ে ৯ লাখ ছাড়াল

আল্লামা শফী হাসপাতালে ভর্তি

বৃষ্টি ও উজানের ঢলে কুড়িগ্রামের সব নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি

বিশ্বে ২১৩টি দেশে ছড়িয়েছে করোনাভাইরাস

বাল্যবিয়ের শিকার,স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা