শুক্রবার, ৭ই আগস্ট, ২০২০ ইং ২৩শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

নৌ ও সড়ক পথে ঝড়ল ১৮ প্রাণ

news-image

নিউজ ডেস্ক : ঈদের আগের দিন শুক্রবার দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক ও নৌ দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। টাঙ্গাইল, হবিগঞ্জ, সিলেট, গাইবান্ধা, সাতক্ষীরা, শেরপুর এবং বগুড়ায় শুক্রবার ভোর থেকে বিকাল পর্যন্ত পৃথক দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত এবং ১৪ জন আহত হন।

টাঙ্গাইলে নৌকাডুবির ঘটনায় মা-ছেলেসহ পাঁচজন নিহত হন।

শুক্রবার বিকাল ৪টার দিকে উপজেলার কাউলজানী ইউনিয়নের গিলাবাড়ী বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন উপজেলার গিলাবাড়ী গ্রামের নৌকার মাঝি তাইজ উদ্দিন (৫০), একই এলাকার মিঞ্জু মিয়ার স্ত্রী জমেলা বেগম (৬০) ও তার ছেলে হামিদুর রহমান রনো (৩৫), একই এলাকার আতা মিয়ার ছেলের স্ত্রী (৩২), সখীপুর উপজেলার কৈয়ামধু গ্রামের হায়দার আলীর ছেলে শাহ আলম ( ২৫)।

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার আব্দানারায়ণ এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে শুক্রবার ভোর ৬টার দিকে বাস ও প্রাইভেটকারের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই নারী পোশাক কর্মীসহ তিনজন নিহত হন। এতে আরো তিনজন আহত হন।

নিহতরা হলেন সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভপুর উপজেলার দশঘর গ্রামের শাহিদা (৩৫) ও মালেকা (২২) এবং প্রাইভেটকারের চালক।

শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌফিকুল ইসলাম তৌফিক জানান, ঈদের ছুটিতে প্রাইভেটকার ভাড়া করে ছয়জন ঢাকা থেকে সুনামগঞ্জ যাচ্ছিলেন। পথে আব্দানারায়ণ এলাকায় পৌঁছলে মনোহরদীগামী একটি বাসের সঙ্গে কারটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে তিনজন মারা যান।

অপরদিকে সিলেটের ওসমানীনগরে যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাইভেটকারের চালক ও একই পরিবারের চার যাত্রী নিহত এবং একজন আহত হয়েছেন।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার বরায়া চাঁনপুর এলাকায় সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন প্রাইভেটকারের চালক মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ এলাকার হাশেম এবং যাত্রী সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার শ্যামনগর গ্রামের স্বপন কুমার দাস, তার স্ত্রী লাভলী রানী দাস এবং তাদের ৮ বছর বয়সী জমজ সন্তান সাজ ও সাজন। তারা শ্রীমঙ্গল থেকে সুনামগঞ্জে গ্রামের বাড়ি ফিরছিলেন।

সিলেট হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মায়নুল ইসলাম বলেন, ‘বাস ও কারের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই পাঁচজন নিহত হন। তারা সবাই প্রাইভেটকারের যাত্রী ছিলেন।’

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে কভার্ড ভ্যান ও প্রাইভেটকারের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হন। এ সময় আহত হয়েছেন আরও ছয়জন। শুক্রবার সকালে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের নুনদহ ব্রিজ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন রংপুরের পীরগঞ্জের সাহেদ মিয়া (৪০), কাজল মিয়া (৩২) ও গঙ্গাচড়া উপজেলার শাকিল ইসলাম (৫৬)। গাইবান্ধা ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক এনামুল হক জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে গোবিন্দগঞ্জ ও সদর ফায়ার সার্ভিসের দুটি দল হাইওয়ে পুলিশের সাথে উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়।

শেরপুরে নকলায় ঢাকাগামী এক কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় এক পথচারী নিহত হয়েছেন। পথচারীকে ধাক্কা দেওয়ার পর কাভার্ড ভ্যানটির চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে পাশে উল্টে গিয়ে চালক ও তার সহকারীও আহত হন।

শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে শেরপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়কে নকলা উপজেলার কুর্শাবাগৈড় এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে। নিহত রাজিব মিয়া (৩০) স্থানীয় চা বিক্রেতা নেকবর আলীর ছেলে।

এ ছাড়া, ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরার পথে বগুড়া-নাটোর মহাসড়কের নন্দীগ্রাম উপজেলার রনবাঘা নামক স্থানে ট্রাক চাপায় এনজিওর এক নারীকর্মী নিহত হয়েছেন।

শুক্রবার সকাল পৌনে ৯টায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত এনজিও কর্মীর নাম শাপলা খাতুন (২৮)। এ ঘটনায় স্বামী তাইজুল ইসলাম ও শিশু কন্যা সিদ্দিকা (৭) আহত হয়েছেন। হতাহতদের বাড়ি বগুড়া জেলার দুপচাঁচিয়া উপজেলার মালবাড়ি গ্রামে।