শুক্রবার, ৭ই আগস্ট, ২০২০ ইং ২৩শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

করোনা ও বন্যার প্রভাব পড়ছে রংপুরের কামারপল্লীতে

news-image

নিজস্ব প্রতিবেদক : মুসলমানদের বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদ-উল-আযহা। যা কোরবানী ঈদ নামেই পরিচিত। মহান আল্লাহ তায়ালাকে রাজি খুশি রাখার জন্য ধর্মীয় রীতি-নীতি অনুযায়ী এই উৎসবে পশু জবাই করে কোরবানি করেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। এই উৎসবের আর বাকি রয়েছে মাত্র ২ দিন। যে সময় সব থেকে ব্যস্ত থাকে কামাররা, কিন্তু এবার বৈশি^ক মহামারী করোনা ভাইরাস ও কয়েক দফায় বন্যার প্রভাব পড়েছে। ফলে আগের মত ব্যস্ততা নেই রংপুর নগরীসহ জেলার কামারপল্লীতে।

সরেজমিনে নগরীর কামারপাড়া, আশরতপুর, বুড়িরহাট, কামারের মোড়, লালবাগ, মর্ডাণ, মাহিগঞ্জসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে এ চিত্র দেখা গেছে।

কামাররা বলেন, প্রতি বছর কোরবানির ঈদে ১০-১৫ দিন আগে থেকেই ব্যস্ত সময় পার করেন তারা। দম ফেলানোর সময় পান না। তবে এবার ঘটছে তার উল্টো। করোনা আর কয়েক দফা বন্যার কারণে তাদের পেশায় বিরুপ প্রভাব পড়েছে। আগের মত কাজ নেই। অলস সময় কাটছে তাদের।

তারা আরও বলেন, মানুষ অর্থ সংকটে রয়েছে যার ফলে আমরা প্রতি বছরের ন্যায় এবার কাজ নেই বললেই চলে। এর প্রভাব কামারদের জীবনমানে পড়বে।

এ বিষয়ে কথা হয় নগরীর আশরতপুর কামারের মোড় এলাকার রতন কর্মকার (৩৫) এর সাথে। তিনি বলেন, তার দোকানে তিনিসহ আরও দুইজন কর্মচারী রয়েছে। কোরবানির ঈদকে ঘিরে তিনি বছরের সবচেয়ে বেশী কাজ করেন। কিন্তুু এবার কাজের পরিমাণ গত বছরের তুলনায় অর্ধেকেরও কমে গেছে, ফলে আমাদের আয় নেই বললেই চলে।

অন্যদিকে সুকুমার চন্দ্র কর্মকার (৪৫) বলেন, ছোটবেলা থেকেই বাবার মাধ্যমে কামারের কাজ শিখি। পরে এটাকে পেশা হিসাবে নেই। এখন আমার দুই ছেলেও এই পেশায় যোগ দিয়েছে। জন্মলগ্ন থেকে দেখেছি,জেনেছি কোরবানির ঈদে সব থেকে ব্যস্ত থাকে কামারা কিন্তু এবার ঘটেছে তার ব্যতিক্রম, কাজ খুব হালকা ফলে আয় কমে গেছে। অনেকে গরুর বদলে খাসি কোরবানি দিচ্ছে, ফলে হাতিয়ার তৈরীর চাহিদা ও কমে গেছে।

রংপুর বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দফতর সূত্রে জানা গেছে, বিভাগের আট জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা সাড়ে ছয় লাখ হলেও কোরবানিযোগ্য পশু মজুত আছে ৭ লাখ ৭২ হাজার ৮৮১টি। এর মধ্যে ষাঁড়, বলদ, গাভী, মহিষ চার লাখ ৯৮ হাজার ৫৩৪টি, ছাগল, ভেড়াসহ অন্যান্য দুই লাখ ৭১ হাজার ২৩৩টি এবং গৃহপালিত পশু আছে এক লাখেরও বেশি।