সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২০ ইং ২৬শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শুকিয়ে গেছে নদী : পানির হাহাকার গ্রামটিতে

news-image

অনলাইন ডেস্ক : বানকা গ্রামের জীবনধারার সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে কুরা নদী। কিন্তু চলতি গ্রীষ্মে নাটকীয়ভাবে কমে গেছে নদীটির পানির গভীরতা; নদীর অনেকাংশ শুকিয়ে যাওয়ায় বেড়েছে লবণাক্ততা, দূষণ। তাতে হাহাকারের শেষ নেই আজারবাইজানের গ্রামটির বাসিন্দাদের।

ইউরো এশিয়ার ককেশাস অঞ্চলের দেশটির কুরা নদীর শুকিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে বড় ধরনের পরিবেশগত বিপর্যয় হিসেবে দেখছেন বলে বার্তা সংস্থা এএফপি’র খবরে বলা হয়েছে।

নদীটির পানি শুকিয়ে একেবারে তলানিতে ঠেকেছে। পানির ওপর থেকেই তলানির কাদা-পলি দেখা যায়। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে কুরা নদীর আশপাশের মানুষজনদের ট্রাকে করে বাইরে থেকে সুপেয় পানির জোগান দিতে হচ্ছে।

পানির ট্রাকের জন্য অপেক্ষারত কৃষক মরিয়ম হাসানোভা বলেন, “আমাদের গৃহপালিত প্রাণীগুলো মরে যাচ্ছে। আমরা সময়মতো পানি পাচ্ছি না।”

কুরা নদী শুকিয়ে যাওয়ার ফলে আজারবাইজানের দক্ষিণাঞ্চলের দুটি এলাকা তীব্র পানির সংকটে পড়েছে। হাসানোভার মতো যারা কৃষি কাজ এবং পশু পালনে জড়িত তাদের সমস্যাটা বেশি।

নদীটির পানি এভাবে শুকিয়ে যাওয়াটা নজিরবিহীন বলে উল্লেখ করেছেন আজারবাইজানের বাকু’র ইনস্টিটিউট অব জিওলজির পরিচালক রমিজ মামাদোভ- “এই গ্রীষ্মে কুরার পানির স্তর নেমে যাওয়াটা অনভিপ্রেত। নদীর তীর ভয়ংকর এক দৃশ্যে পরিণত হয়েছে।”

আজারবাইজানের সেন্টার ফর ইকোলজিক্যাল ফরকাস্টিংয়ের প্রধান তেলমান জায়নালোভ বলেন, “এটা পরিবেশগত বিপর্যয়।”

কুরা নদীর উৎপত্তি তুরস্কের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে। দেড় হাজার কিলোমিটারের বেশি দৈর্ঘ্যের নদীটি জর্জিয়া ও আজারবাইজান হয়ে কাস্পিয়ান সাগরে পড়েছে। পুরো ককেশাস অঞ্চলেই এই নদীর গুরুত্ব অনেক।

পানির অভাবে হাহাকারে পড়া বানকা গ্রামটি নদীটির কারণে সৃষ্ট ব-দ্বীপের নিকটে অবস্থিত। নদীর পানি প্রবাহ কমে যাওয়ায় উল্টো কাস্পিয়ান সাগর থেকে লবণাক্ত পানি উজানে উঠে আসছে।

গ্রামটির প্রবীণ বাসিন্দা ৮০ বছর বয়সী ফামিল আখমেদভ বলেন, “নদীর পানি আমরা ব্যবহার করতে পারি; পশু প্রাণীকে খাওয়ানোর জন্যও ব্যবহার করা যায় না। ভয়াবহ এক অবস্থায় আছি আমরা।”