শুক্রবার, ৭ই আগস্ট, ২০২০ ইং ২৩শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, বসত ভিটা ছেড়ে অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়ে

news-image
তৌহিদুর রহমান নিটল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার ধলেশ্বরী ও লঙ্গন নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ভারী বর্ষন ও  টানা বৃষ্টিপাতের ফলে উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে ধলেশ্বরী ও লঙ্গনের পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।  বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নিম্নাঞ্চলের অনেক বাড়ী ঘর, মাছের চাষ করা পুকুর, রাস্তা- ঘাট, ফসলী জমি, সবজি বাগান তলিয়ে গেছে। কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে সিলেটের সুরমা,কুশিয়ারা, মৌলভীবাজারের মনু এবং হবিগঞ্জের খোয়াই নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলের পানি এসে মিলিত হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার ধলেশ্বরী ও লঙ্গন নদীতে।
পানি বৃদ্ধির কারণে ইতোমধ্যে প্লাবিত হয়েছে নিন্মাঞ্চলের গ্রাম গুলো। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় দেখা দিয়েছে বন্যা।  এতে অনেকেই বসত ভিটা ছেড়ে চলে গেছে নিরাপদ আশ্রয়ে। গোকর্ণ ইউনিয়নে গিয়ে গেছে নিম্নাঞ্চলে বসবাসকারী প্রায় ৭০টি পরিবার নিজের বস ভিটা ছেড়ে বিভিন্ন জায়গায় নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছে। গোকর্ণ ছাড়াও বুড়িশ্বর ইউনিয়নের আশুরাইল গ্রামের প্রায় শতাধিক ঘর বাড়ী সহ ২টি রাস্তা পানি নীচে ডুবে যাওয়ায় মানুষের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। তাছাড়াও চাতলপাড়, ভলাকুট, গোয়ালনগরের অধিকাংশ নিম্নাঞ্চলের ও নিম্ন আয়ের মানুষের বাড়ী ঘর পানির নীচে তলিয়ে গেছে। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শুব্র সরকারের সাথে যোগাযোগ করে উপজেলার কি পরিমাণ মাছ চাষ করা পুকুরের ক্ষতি হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাঠ পর্যায়ে কাজ চলছে। রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত বিস্তারিত বলা সম্ভব হচ্ছে না। নাসিরনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সাঈদ মোঃ তারিক বলেন, এ পর্যন্ত ২৭৫ হেক্টর আউশ ও৭৫ হেক্টর বোনা আমনের তালিকা করা হয়েছে।
এছাড়া অব্যাহত ভাবে পানি বৃদ্ধির কারণে বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হচ্ছে। মেঘনা নদীর আশুগঞ্জ পয়েন্টে ও তিতাস নদীর চারটি পয়েন্টে পানি বৃদ্ধির কারণে জেলার নবীনগর, নাসিরনগর ও সরাইল উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাড়ি ঘরে পানিতে তলিয়ে গেছে। মেঘনা নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে আশুগঞ্জ শহর হুমকির মুখে রয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সতর্ক রয়েছে। তিতাসের পানি বৃদ্ধির ফলে শহরতলীর কিছু এলাকা পানি ঢুকতে শুরু করেছে।  সরাইল উপজেলার অরুয়াইল-সরাইল সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে।  এ ছাড়া জেলা বিভিন্ন এলাকার তলিয়ে গেছে রাস্তা ঘাট, আউশ ধান, ফসলী জমি, বসত ভিটা। পানিবন্দি হয়ে বহু পরিবার বাড়ি ঘর ছেড়ে এখন উচু স্থান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়েছে। প্রতি মুর্হুতেই নতুন নতুন এলাকা তলিয়ে যাচ্ছে।
 ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) রঞ্জন কুমার দাস জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস নদীর চারটি পয়েন্টে বিপদ সীমার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এর মধ্যে তিতাস নদীর নবীনগর পয়েন্টে বিপদ সীমার ৭৭ সেন্টিমিটার, সরাইলের আজবপুর পয়েন্টে বিপদ সীমার ৫৪ সেন্টিমিটার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর শহরের কুরুলিয়া পয়েন্টে বিপদ সীমার ৪৭সেন্টিমিটার এবং গোকর্ণঘাট পয়েন্টে বিপদ সীমার ৩৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মেঘনা নদীর পানি এখনো বিপদ সীমার ১৯ সেন্টিমিটার নিচে আছে। প্রতিদিনই মেঘনা নদীর পানি অন্তত ৭থেকে ১০ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এ ছাড়া হাওড়া নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও আখাউড়া পয়েন্টে বিপদ সীমার ২৯ নিচে ও গঙ্গাসাগর পয়েন্টে বিপদ সীমার ৭৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে পানি বৃদ্ধির বিষয়টি নজরদারি করা হচ্ছে।

এ জাতীয় আরও খবর

মহামারীতে বন্ধ হচ্ছে বিদেশে উচ্চশিক্ষা!

আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় : নদী ‘জীবন্ত সত্ত্বা’

দেশে চলমান বন্যায় প্রাণ হারাল ১৬১ জন

আগামী সপ্তাহ থেকে দুই মাধ্যমেই চলবে উচ্চ আদালত

স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতরের পরিচালক আর নেই

পুলিশ আশ্বস্ত করেছে এটাই শেষ ঘটনা : আইএসপিআর

ওসি প্রদীপ ও পরিদর্শক লিয়াকতসহ ৩ জন রিমান্ডে

করোনা প্রতিরোধে জেলা তথ্য অফিসের পথ প্রচার মাইক চলছে প্রতিটি উপজেলায় 

আমিরাতের আগুনে নিঃস্ব বহু বাংলাদেশি

সিনহা হত্যা মামলা : ওসি প্রদীপসহ ৯ আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

গান বাজানোয় ক্ষতিপূরণ চেয়ে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা

কোনো নায়কের সঙ্গে বিছানায় যাইনি : রাভিনা