সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২০ ইং ২৬শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

আয়া সোফিয়ার ‘সেলিব্রিটি’ সেই বিড়ালটির কী হবে

news-image

অনলাইন ডেস্ক : তুরস্কের ঐতিহাসিক স্থাপনা আয়া সোফিয়ায় আছে গ্লি নামের একটি বিড়াল। গ্লি বেশ জনপ্রিয়, নানা কারণে বিখ্যাতও।

তবে সম্প্রতি আয়া সোফিয়া মসজিদে রূপান্তরের সিদ্ধান্তের পর স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক গণমাধ্যমে উঠে আসে গ্লি। কী ঘটবে প্রাণীটির ভাগ্যে?

বার্তা সংস্থা রয়টার্স তুরস্কের কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে জানায়, আয়া সোফিয়াতেই থাকবে বিড়ালটি।

আয়া সোফিয়া মিউজিয়াম থাকার সময় দর্শনার্থীদের প্রিয় হয়ে উঠে ধূসর রঙের শরীর ও সবুজ জ্বলজ্বলে চোখের গ্লি।

২০০৯ সালে এক সফরে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বিড়ালটির সঙ্গে ছবি তোলেন। এরপরে বিখ্যাত হয়ে উঠে গ্লি।

দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোয়ানের মুখপাত্র ইব্রাহিম কালিন বলেন, গ্লিসহ যেসব বিড়াল এ জায়গাটিতে আছে, তারা এখানেই থাকবে।

তিনি বলেন, এই বিড়ালটি অনেক বিখ্যাত হয়ে গেছে এবং আরো বিড়াল আছে যেগুলো এতটা বিখ্যাত নয়। এই বিড়ালটি তো থাকছেই, অন্য বিড়ালগুলোও আমাদের মসজিদে থাকতে পারবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বেশ জনপ্রিয় গ্লি। তার নামে ইনস্টাগ্রামে আছে একটি অ্যাকাউন্টও। উমুত বাহচেচির নামে এক ব্যক্তি চার বছর ধরে অ্যাকাউন্টটি চালান।

ইনস্টাগ্রামে গ্লির আছে প্রায় ৫০ হাজার ফলোয়ার। অ্যাকাউন্টটিতে বিড়ালটিতে ছবি পোস্ট করা হয়ে থাকে। দর্শনার্থীরাও তাদের তোলা ছবি তোলা ট্যাগ করেন।

উমুত বলেন, আমি যখনই (আয়া সোফিয়ায়) যেতাম গ্লিকে দেখতাম। সে মডেলের মতো পোজ দিতো। মানুষ আমাকে লিখতো, গ্লি তোমাকে দেখতে ইস্তানবুলে আসবো। খুব ভালো লাগতো।

গত ১১ জুলাই ১৯৩৪ সালের এক ডিক্রি অবৈধ ঘোষণা করে আয়া সোফিয়াকে ফের মসজিদে রূপান্তরের পক্ষে রায় দেয় আদালত। প্রশাসনিক আদালত থেকে রায় পাওয়ার এক ঘণ্টা পর নতুন ডিক্রি জারি করেন এরদোয়ান।

বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের অধিপতি সম্রাট প্রথম জাস্টিনিয়ানের নির্দেশে ষষ্ঠ শতাব্দীতে আয়া সোফিয়া নির্মিত হয়। ওই সময় এটিই ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে বড় গির্জা।

এরপর ১৪৫৩ সালে ইস্তাম্বুল ওসমানী খেলাফতের দখলে গেলে একে মসজিদে পরিণত করেন বিজেতা সুলতান মাহমুদ ফাতিহ।

ওসমানী খেলাফতের বিলুপ্তি হলে ১৯৩৪ সালে মুস্তফা কামাল আতাতুর্ক স্বাক্ষরিত এক ডিক্রিতে মসজিদটিকে জাদুঘরে পরিণত করা হয়। এটি এখন ইউনেস্কো ঘোষিত একটি বিশ্ব ঐতিহ্য স্থান।

গত শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে আয়া সোফিয়াতে নামাজ পড়া হয়। এদিন জুমার নামাজে অংশ নেন প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানও।