শুক্রবার, ৭ই আগস্ট, ২০২০ ইং ২৩শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ঢাবি থেকে বরখাস্ত শারমিন

news-image

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে নকল মাস্ক সরবরাহের অভিযোগে গ্রেপ্তার সহকারী রেজিস্ট্রার শারমিন জাহানকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

রোববার সন্ধ্যায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাকে বরখাস্ত করার তথ্য জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়।

নিম্নমানের মাস্ক সরবরাহের করেছে অভিযোগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন-১ শাখার সহকারী রেজিস্ট্রার শারমিনের মালিকানাধীন অপরাজিতা ইন্টারন্যাশনালে বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় মামলা করেছেন বিএসএমএমইউর প্রক্টর অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ।

ওই মামলায় শুক্রবার রাতে ছাত্রলীগের সাবেক নেত্রী শারমিনকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনদিনের রিমান্ডে নিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ।

শারমিনকে বরখাস্তের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারি রেজিস্ট্রার মোছাম্মৎ শারমিন জাহানের শিক্ষা ছুটিতে থাকা অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি ব্যতিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি-বিধান ও চাকুরী শৃঙ্খলা পরিপন্থী। অধিকন্তু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে নকল এন৯৫ মাস্ক সরবরাহের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা হওয়ায় ও পুলিশ রিমান্ডে থাকায় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করছে।

“এমতাবস্থায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারি রেজিস্ট্রার মোছাম্মৎ শারমিন জাহানকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকুরী থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। একইসাথে তাকে ৭ (সাত) কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর জন্য নোটিশ প্রদান করা হয়েছে।”

শারমিন জাহান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষা ছুটি নিয়ে ২০১৬ সালে চীন সরকারের শিক্ষাবৃত্তি নিয়ে উহান হোয়াজং ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে (এইচইউএসটি) পিএইচডি করতে যান। কোভিড–১৯ শুরু হলে উহানে লকডাউনের পর গত ২৩ জানুয়ারি তিনি দেশে ফিরে আসেন।

এর মধ্যে চীনে থাকা অবস্থায় ২০১৯ সালের মার্চে অপরাজিতা ইন্টারন্যাশনাল নামে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান গড়ে নিজের ব্যবসা শুরু করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজে স্নাতকোত্তর শারমিন ২০০২ সালে ছাত্রলীগের বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হল শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগের গত কমিটিতে তিনি মহিলা ও শিশুবিষয়ক কেন্দ্রীয় উপকমিটির সহসম্পাদক ছিলেন। বর্তমান কমিটিতে কোনো পদ না পেলেও দলের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত।

মামলার বিবরণে জানা যায়, শারমিনের মালিকানাধীন অপরাজিতা ইন্টারন্যাশনাল ২৭ জুন ১১ হাজার মাস্ক সরবরাহের কার্যাদেশ পায়। এর বিপরীতে অপরাজিতা ইন্টারন্যাশনাল ৩০ জুন প্রথম দফায় ১৩০০, ২ জুলাই দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফায় ৪৬০ ও ১০০০ এবং চতুর্থ দফায় ৭০০ মাস্ক সরবরাহ করে।

কিন্তু তৃতীয় ও চতুর্থ দফায় পণ্য ‘সামগ্রিক গুণগতমানের স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী পাওয়া যায়নি’ অভিযোগ করে এজাহারে বলা হয়, “কোনো কোনো ফেইস মাস্কের বন্ধনী ছিঁড়ে গেছে, কোনো মাস্কের ছাপানো ইংরেজিতে লেখা ছিল ত্রুটিপূর্ণ। এ ধরনের ত্রুটিতে কর্তৃপক্ষ বুঝতে পারে, মাস্ক নিম্নমানের ছিল। এর ফলে কোভিড-১৯ এর সম্মুখযোদ্ধাদের জীবন মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়তে পারত।

“এ বিষয়ে ১৮ জুলাই অপরাজিতা ইন্টারন্যাশনালের স্বত্ত্বাধিকারী শারমিন জাহানকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেয় বিএসএমএমইউ। ২০ জুলাই লিখিত জবাবে শারমিন দুঃখপ্রকাশ করেন, যা আসামির দোষ স্বীকারের শামিল।”

শারমিন জাহানের বিরুদ্ধে এ মামলায় দণ্ডবিধির ৪২০ ও ৪০৬ ধারায় প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ দুটি ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ সাত বছর এবং সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।