শুক্রবার, ২৯শে মে, ২০২০ ইং ১৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

দুর্ভোগের বোঝা মাথায় নিয়ে বাড়ি ফিরছে মানুষ

news-image

নিউজ ডেস্ক : গণপরিবহন বন্ধ, পণ্যবাহী যানবাহনেও যাত্রী পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা। এমন অবস্থায় সীমাহীন দুর্ভোগের বোঝা মাথায় নিয়েও নাড়ির টানে ঘরে ফিরছে মানুষ। করোনা আতঙ্ক উপেক্ষা করে অটোরিকশা, ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল, মিশুক, মাইক্রোবাসসহ ছোট ছোট যানবাহনে এক স্টেশন থেকে আরেক স্টেশনে গাড়ি পরিবর্তন করে কেটে কেটেই বাড়ি ফিরছেন শ্রমজীবী মানুষগুলো।

শনিবার (২৩ মে) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কড্ডার মোড়, নলকা ও হাটিকুমরুল গোলচত্বর এলাকায় সরেজমিনে গেলে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে ফেরা যাত্রীদের দুর্ভোগের চিত্র দেখা যায়। অসংখ্য যাত্রীকে পায়ে হেঁটেও আসতে দেখা গেছে।

দয়াল চন্দ্র, দিলীপ রায়, মনোরঞ্জন, অমল্য রায়সহ ২০-২৫ জন কৃষি দিনমজুর কড্ডার মোড় এলাকায় ট্রাক বা অন্য কোনো সুলভ ভাড়ার যানবাহনের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। রংপুর জেলার এসব শ্রমিক কুমিল্লায় ধানকাটার কাজ শেষে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছেন। একটি বাসে তারা বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত আসার পর পুলিশ বাসটি আটকে দেয়। এতে চরম সমস্যায় পড়েছেন হতদরিদ্র এসব দিনমজুরেরা।

জানতে চাইলে এই কৃষি দিনমজুরেরা বলেন, সেতু থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার হেঁটে কড্ডার মোড় পর্যন্ত এসেছি। ২ ঘন্টা অপেক্ষার পরও রংপুর যাবার মতো কোনো গাড়ি পাইনি। এখন আবার হাঁটা ধরেছি। দেখছি সামনের স্টেশনে কোনো ট্রাক পাই কিনা।

ঢাকার একটি বেসরকারি গার্মেন্টেসের কোয়ালিটি ইনচার্জ লুৎফর রহমান। একটি মাইক্রোবাসে ১৫ জন গাদাগাদি করে কড্ডার মোড় এসেছেন তিনি। আর ঢাকা থেকে কড্ডায় আসতে তার কাছ থেকে ১২শ’ টাকা ভাড়া নিয়েছে মাইক্রোবাস চালক।

তিনি বলেন, ১৫ জনের মধ্যে নাটোর, বনপাড়ার যাত্রীও রয়েছেন। কিন্তু মাইক্রোবাস চালক প্রত্যেকের কাছ থেকে ইচ্ছেমতো ভাড়া নিচ্ছেন। ১২শ’ থেকে শুরু করে ২ হাজার টাকা করেও ভাড়া নিয়েছেন তিনি।

টাঙ্গাইলে থেকে আসা কৃষি দিনমজুর বেলাল হোসেন শহীদুল, আলামিন ও উজ্জল জানান, ৮দিন টাঙ্গাইলে ধানকাটার কাজ করে ৩ হাজার টাকা করে আয় করেছেন তারা। সিএনজি অটোরিকশা ও মিশুকে করে বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্বপাড় পর্যন্ত এসেছেন। এরপর নৌকায় যমুনা নদী পাড়ি দিয়ে কড্ডার মোড় পর্যন্ত আসতে পেরেছেন। মাত্র ৩৫ কিলোমিটার পথ আসতে তাদের ৩শ’ টাকা করে খরচ হয়েছে। তাড়াশ যেতে আর কত খরচ হবে কে জানে।

পোশাককর্মী সাহিদা খাতুন, ফাতেমা বেগম, জিন্নাহ আলীসহ অনেকেই বলেন, ঢাকা থেকে কখনও মিশুক, কখনও পিকআপ আবার কখনও সিএনজি অটোরিকশা করে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত আসার পর নৌকায় নদী পার হয়েছেন। এরপর থেকে হেঁটে হেঁটে কড্ডার মোড় পর্যন্ত এসে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছেন। নওগাঁ জেলার এসব পোশাককর্মীরা বাকি পথ কীভাবে যাবেন তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

ঢাকা থেকে আসা এসব ঈদযাত্রীরা বলেন, করোনা আতঙ্ক থাকলেও আমাদের দেশে ফিরতেই হবে। ঢাকায় ঈদ করার মতো অবস্থা তাদের নেই। স্বজনেরা সকলেই দেশের বাড়ি। স্বজনদের সঙ্গে স্বল্প পরিসরে হলেও ঈদ করতে হবে। এ কারণে কষ্টের বোঝা মাথায় নিয়েও দেশে ফিরছেন তারা।

সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার (বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম ও কামারখন্দ থানা সার্কেল) শাহীনুর কবির বলেন, সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক মহাসড়কে দায়িত্ব পালন করছে পুলিশ। গণপরিবহণ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রয়েছে। ট্রাক বা পণ্যবাহী পরিবহণগুলোতেও যাত্রী পরিবহণ করতে দেয়া হচ্ছে না। তবে প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেল চলাচলে কোনো বাধা নেই। বাংলানিউজ