শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২০ ইং ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ঝুঁকি নিয়ে ঈদের কেনাকাটায় ব্যস্ত মানুষ

news-image

নিজস্ব প্রতিবেদক : রোজা ২৯টি হলে রাত পোহালেই খুশির ঈদ। আর রোজা ৩০টি হলে একদিন পরই পালিত হবে ঈদ। খুশির ঈদ দুয়ারে কড়া নাড়ায় করোনাভাইরাসের ঝুঁকি নিয়েই শেষ মুহূর্তে ঈদের কেনাকাটা করতে মার্কেটে মার্কেটে ছুটছেন রাজধানীর বাসিন্দারা।

এখন ক্রেতাদের একটি অংশ মার্কেটে ভিড় করায় করোনাভাইরাসে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে বারবার সতর্ক করা হলেও মার্কেটে ছুটে যাওয়া মানুষগুলো সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি খুব একটা মানছেন না। কেউ কেউ ছোট শিশুদের নিয়ে ভিড় ঠেলে মার্কেটে ঢুকছেন।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর খিলগাঁওয়ে তালতলা সিটি করপোরেশন সুপার মার্কেটে গিয়ে দেখা যায়, মার্কেটের প্রবেশ গেটে জীবাণুনাশক ট্যানেল বসানো হয়েছে। কেউ কেউ এই ট্যানেলের ভেতর দিয়ে মার্কেটে প্রবেশ করছেন। অনেকেই ট্যানেলের ভেতর না ঢুকে পাশ দিয়ে চলে যাচ্ছেন। কেউ কেউ মোটরসাইকেল নিয়ে ট্যানেলের পাশ দিয়ে মার্কেটের চত্বরে ঢুকে পড়ছেন।

এভাবে ঝুঁকি নিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মার্কেটটিতে মানুষ ছুটে আসায় উদ্বেগ প্রকাশ করছেন আশপাশের বাসিন্দারা।

তারা বলছেন, মানুষের মধ্যে কোনো ধরনের সচেতনতা নেই। প্রতিদিন মার্কেট করতে মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ভিড় কম থাকলেও বিকেলের দিকে এক প্রকার ঢল নামে। এতে যারা মার্কেট করতে আসছেন তারা যেমন নিজেদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলছেন, তেমনি আশপাশের বাসিন্দাদেরও ঝুঁকিতে ফেলছেন।

ছোট শিশু নিয়ে মার্কেটে আসা রাহেলা বলেন, নতুন পোশাকের জন্য বাবু কান্নাকাটি করছিল। তাই ওকে নিয়ে এসেছি। সকালে ভিড় কম থাকে, তাই সকালে এসেছি। ভিড় বাড়ার আগেই কেনাকাটা শেষ করে ফিরে যাব।

বাসাবো থেকে ঈদের পোশাক কিনতে আসা মারিয়া বলেন, ‘আমি মার্কেট করতে এই মার্কেটে খুব একটা আসি না। নিউমার্কেটে বেশি যাই। কিন্তু এবার নিউমার্কেট বন্ধ। তাই এখানে এসেছি। অনেক বাছাবাছি করে দুটি ড্রেস কিনেছি। তবে খুব একটা মনে ধরেনি। তারপরও এই দিয়েই এবারের ঈদ চলে যাবে।’

করোনাভাইরাসের ভয় লাগে না? এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ঈদ তো চলেই এসেছে। কাল না হয় পরশু ঈদ। নতুন পোশাক ছাড়া ঈদের আনন্দ থাকে না। তাই এসেছি। করোনার ভয়ে ঘরে বন্দি হয়ে থাকলে তো জীবন চলবে না। এসব করোনার ভয় আমার লাগে না। যার করোনা হওয়ার তার এমনিই হবে। তাছাড়া কার মৃত্যু কখন হবে তা আল্লাহ্ আগেই লিখে রেখেছেন। মৃত্যুর সময় হলে সিন্দুকে ঢুকে থাকলেও কেউ রক্ষা করতে পারবে না।

মার্কেটের প্রবেশ গেটের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আলিম নামের একজন রিকশাচালক বলেন, এই মার্কেটে প্রতিদিন প্রচুর মানুষ কেনাকাটা করতে আসে। এতে আমাদেরও আয় একটু বেড়েছে। আগে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থেকেও ভাড়া হতো না। এখন আল্লাহর রহমতে বেশ ভালো ভাড়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘দিন দশেক ধরে আমি প্রতিদিন এই মার্কেটকেন্দ্রিক ভাড়া পেয়েছি। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মানুষের ভিড় তুলনামূলক কম হয়। বিকেলে এলে দেখবেন এখানে মানুষে ঢল।’

মার্কেটের এক পোশাক বিক্রেতা জুয়েল বলেন, তালতলা মার্কেটে নারীদের পণ্যসামগ্রী বেশি বিক্রি হয়। ফলে এখানে যে ক্রেতারা আসেন তার বেশিরভাগই নারী। অন্য বছরের তুলনায় এবার আমাদের বিক্রি তুলনামূলক কম। ঈদের বিক্রি সাধারণত রোজার শুরু থেকেই শুরু হয়। কিন্তু করোনার কারণে এবার তো প্রথমদিকে আমরা দোকানই খুলতে পারিনি। সরকার অনুমোদন দিলে ১০ তারিখ থেকে মার্কেট খোলা হয়। তবে প্রথমদিকে ক্রেতা তেমন একটা ছিল না। গত কয়েক দিন ধরে কিছু ক্রেতা আসছেন।

আতিক নামের আরেক ব্যবসায়ী বলেন, আমাদের সারা বছরের মূল ব্যবসা হয় রোজার ঈদ ও পহেলা বৈশাখে। এবার করোনার কারণে পহেলা বৈশাখে দোকান খুলতে পারিনি। ঈদে দোকান খোলার সুযোগ দেয়া হয়েছে অল্প কয়েক দিনের জন্য। কিন্তু করোনার কারণে এবার অন্য বছরের তুলনায় ক্রেতা কম।

তালতলা মার্কেটের পাশের একটি বাসার বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, প্রতিদিন এই মার্কেটে হাজার হাজার মানুষ শপিং করতে আসছেন। সামাজিক দূরত্ব তো দূরের কথা, কারও মাঝে কোনো ধরনের সচেতনতা নেই। তাদের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, এবার ঈদের কেনাকাটা করতে না পারলে আর জীবনেও পারবে না। মানুষ এমন অসচেতন হলে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলা কঠিন হবে।

তিনি বলেন, এই মার্কেটে মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। কিন্তু পরিস্থিতি দেখার কেউ নেই। মার্কেটে যারা আসছেন তারা তেমন নিজেদের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছেন তেমনি আশপাশের বাসিন্দাদেরও ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিচ্ছেন। বিশ্বে প্রতিদিন এত মানুষের জীবন যাচ্ছে, তারপরও তাদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি হচ্ছে না।