বৃহস্পতিবার, ২৮শে মে, ২০২০ ইং ১৪ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

লকডাউনে গুপ্তধনের সন্ধান

news-image

নিউজ ডেস্ক : লকডাউনের এই মৌসুমে ঘরবন্দি অবস্থায় মানুষ কত কিছুই না করছে। নিত্য-নতুন রান্নাবান্না, খেলাধুলা, ঘর গোজগাছ তো আছেই, সময় কাটাতে পুরনো জিনিসপত্র ঘাঁটাঘাঁটিও করছেন কেউ কেউ। আর এ ক্ষেত্রে শিশুরা তো বরাবরই একধাপ এগিয়ে। তবে গোছানো জিনিসপত্র এলোমেলো করায় শিশুদের যতই বকুনি দেন না কেন, কপাল ভালো থাকলে তাদের হাত ধরেই হয়তো খুঁজে পেতে পারেন অমূল্য গুপ্তধন। না, এটা কোনো গালগল্প নয়, সত্যিই হয়েছে এমনটা। সম্প্রতি ফ্রান্সের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় ভেনডোম এলাকায় দুই শিশু খেলতে গিয়ে খুঁজে পেয়েছে লাখ টাকার গুপ্তধন। স্থানীয় একটি নিলামকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ফিলিপ রোলাক ফরাসি টিভি চ্যানেল বিএফএমকে জানান, শিশু দুটি লকডাউনের সময় কাটানোর জন্য দাদাবাড়িতে একটা খেলার কুঁড়েঘর তৈরি করতে চেয়েছিল। এর জন্য তাদের অব্যবহৃত একটি ঘরে থাকা দাদির বিছানার পুরনো চাদর ব্যবহার করতে বলা হয়।

শিশু দুটি পুরনো চাদর টান দিতেই হঠাৎ ভারী দুটি বস্তু নিচে পড়ে। তারাও না বুঝে সেগুলো আবারও যথাস্থানে রেখে নিজেদের কাজে মন দেয়। তবে পরে বাবার কাছে এই ‘আবিষ্কারের’ কথা জানায় তারা।

তাদের বাবাও প্রথমে খুব একটা গুরুত্ব দেননি। ভেবেছিলেন ছুরিদানির মতো কিছু হবে হয়তো। কিন্তু পরে দেখা যায়, তিনি নিলামকারী একটি প্রতিষ্ঠানে ফোন দিয়ে জানাচ্ছেন, তারা প্রায় এক কেজি ওজনের দুটি সোনার বার খুঁজে পেয়েছেন, এগুলোর দাম কেমন হতে পারে? বর্তমান বাজারমূল্য অনুসারে বার দুটির দাম হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার ইউরো। এত দামি গুপ্তধন খুঁজে পেলেও এর জন্য অবশ্য খুব বড় কোনো পুরস্কার চায়নি শিশু দুটি। বাবার কাছে তাদের একটাই প্রশ্ন ছিল, ‘আমরা কি এবার সুইমিংপুল পাব?’

দীর্ঘ ৮ সপ্তাহ পর ধীরে ধীরে লকডাউন তুলে নিচ্ছে ফ্রান্স। এরই মধ্যে কর্মক্ষেত্রে ফিরছে লাখো মানুষ। বিবিসি জানায়, গত সোমবার দেশটিতে দোকানপাট খুলেছে। অনেক প্রাইমারি স্কুলও খুলছে। তবে ভ্রমণের কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। রাজধানী প্যারিসসহ দেশের কিছু অংশ কঠোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ছাড়া দেশটির কিছু অংশকে সবুজ ও লাল অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া যাদের পক্ষে সম্ভব, তাদের বাড়ি থেকেই কাজ করতে বলা হয়েছে। দ্বিতীয়বার যেন ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা না দেয়, এ নিয়ে সতর্ক রয়েছে দেশটি।