বৃহস্পতিবার, ২৮শে মে, ২০২০ ইং ১৪ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

জীবাণু দিয়ে ম্যালেরিয়া ‘নিয়ন্ত্রণ’ হবে

news-image

অনলাইন ডেস্ক : বিজ্ঞানীরা এমন এক ধরনের জীবাণুর সন্ধান পেয়েছেন যা মশাকে ম্যালেরিয়ার সংক্রমণ থেকে সম্পূর্ণ রক্ষা করবে। কেনিয়া ও ব্রিটেনের বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি এ ধরনের জীবাণুর সন্ধান পেয়েছেন।

ওই বিজ্ঞানীদের বরাত দিয়ে বিবিসি অনলাইনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাদের এ আবিষ্কার ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণে ‘বিপুল সম্ভাবনা’ তৈরি করেছে।

সংক্রমিত মশার কামড়ে ম্যালেরিয়া মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে মশাকে যদি ম্যালেরিয়ার সংক্রমণ থেকে রক্ষা করা যায়, তাহলে মানুষকেও এ রোগ রক্ষা করা সম্ভব হবে।

ম্যালেরিয়া রোধের জীবাণুর নাম ‘মাইক্রোসপরিডিয়া এমবি’। কেনিয়ার লেক ভিক্টোরিয়া উপক’লে মশা নিয়ে গবেষণার সময় এটি আবিষ্কার করেন বিজ্ঞানীরা। পোকামকড়ের অন্ত্র ও প্রজননতন্ত্রে এ জীবাণু বাস করে।

ম্যালেরিয়ার জীবাণু বহন করছে, এমন একটি মশার মধ্যেও ‘মাইক্রোসপরিডিয়া এমবি’ জীবাণু পাওয়া যায়নি। পরে গবেষণাগারে বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা করে দেখতে পান, ‘মাইক্রোসপরিডিয়া এমবি’ মশাকে ম্যালেরিয়ার জীবাণু থেকে রক্ষা করতে পারছে। বিজ্ঞান সাময়িকী নেচার কমিউনিকেশনসে গবেষণাটি প্রকাশ করা হয়েছে।

‘মাইক্রোসপরিডিয়া এমবি’ এক ধরনের ছত্রাক জাতীয় অণুজীব, যার বেশিরভাগই পরজীবী। তবে এটি মশার জন্য বেশ উপকারী হতে পারে। যত পোকামাকড় নিয়ে গবেষণা করা হয়েছে তার মাত্র ৫ শতাংশের মধ্যে প্রাকৃতিকভাবেই থাকে জীবাণুটি।

কেনিয়ার ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার অব ইনসেক্ট ফিজিওলজি অ্যান্ড ইকোলজির গবেষক জেরেমি হেরেন বলেন, ‘আমরা যে তথ্য পেয়েছি তা শতভাগ কার্যকরী। এই জীবাণু মশার মধ্যে ম্যালেরিয়া ঠেকানোর একটি কার্যকরী হাতিয়ার। এটা একটা বড় আবিষ্কার। মানুষ আসলেই এর মাধ্যমে উপকৃত হবেন।’

প্রতি বছর ম্যালেরিয়ায় বিশ্বব্যাপী চার লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু।

‘মাইক্রোসপরিডিয়া এমবি’ জীবাণু কীভাবে ম্যালেরিয়া রোধ করবে তার বিস্তারিত জানতে আরও গবেষণার প্রয়োজন। তবে জীবাণুটি মশার প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলবে। ফলে এটি ম্যালেরিয়ার সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সক্ষম হবে। এই জীবাণু ম্যালেরিয়ার পরজীবীর জন্য দীর্ঘস্থায়ী প্রতিকূল পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে। ফলে সে প্রতিরোধ ব্যবস্থা টেকসই হবে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে কোনো অঞ্চলের অন্তত ৪০ শতাংশ মশাকে ‘মাইক্রোসপরিডিয়া এমবি’ জীবাণু দিয়ে সংক্রমিত করতে হবে। এটি প্রাপ্ত বয়স্ক মশার মধ্যে প্রবেশ করানো যেতে পারে। এ ছাড়া স্ত্রী মশার মধ্যেও এটি প্রবেশ করানো যেতে পারে। যাতে করে সেই মশা থেকে তার সন্তানদের মধ্যে ‘মাইক্রোসপরিডিয়া এমবি’ জীবাণুটি যেতে পারে।

‘মাইক্রোসপরিডিয়া এমবি’ সংক্রমিত মশার সংখ্যা কীভাবে বাড়ানো যায় তার কৌশল খোঁজার চেষ্টা করছেন বিজ্ঞানীরা।