শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২০ ইং ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

৬ মাস বাড়ি ভাড়া না দিলেও উচ্ছেদ নয়

news-image

অনলাইন ডেস্ক : বিশ্বের অধিকাংশ দেশ ও শহর করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে লকডাউন হয়ে আছে। বিপাকে পড়েছে ছোট-বড়, প্রান্তিক বা শহুরে ব্যবসায়ীরা। বন্ধ রয়েছে অফিস, কলকারখানা। চলছে না গণপরিবহন। এ সময় অর্থের অভাবও দেখা দিয়েছে। কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে বাড়ি ভাড়া দেওয়া।

এমন পরিস্থিতে বাড়িওয়ালাদের উপর বিধি-নিষেধ জারি করেছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। বিভিন্ন দিক বিবেচনায় তাদের ভাড়াটিয়ারা যদি ছয় মাস ভাড়ার অর্থ প্রদান না করতে পারেন, তবুও যেন ‍তাদের উচ্ছেদ করা না হয়। বিশেষ করে করোনাভাইরাসের কারণে তৈরি হওয়া এই পরিস্থিতি বিবেচনা করে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া সরকার।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল তাদের এক প্রতিবেদনে এ খবর প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ নির্দেশনায় অস্ট্রেলীয় সরকার অনেক কঠোর। গত রোববার রাতে মন্ত্রিসভায় একাধিক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয় স্কট মরিসনের সরকার।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন নিজেই। নিজ দেশের গণমাধ্যমে তিনি জনিয়েছেন, গত রোববার রাতে জাতীয় মন্ত্রিসভায় একাধিক বৈঠকে নতুন এই নীতিমালার বিষয়ে নীতিনির্ধারকরা একমত হয়েছেন। রাষ্ট্রীয় ও অঞ্চলগুলি আর্থিক প্রতিবন্ধকতার কারণে ভাড়াটিয়ারা তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে না পারলেও তাদের উচ্ছেদ করা যাবে না। আগামী ছয় মাসের জন্য উচ্ছেদের উপর এই স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকবে। এ সময়ে কোনো ভাড়াটিয়াকে উচ্ছেদ করা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্কট মরিসন আরও বলেন, ‘আমরা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আরও জোরদার বিধান পাওয়ার জন্য ব্যবসায়ী, বাড়িওয়ালা এবং ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক করবো।’

নির্দেশনা মানতে বাড়িওয়ালাদের তাদের ভাড়াটিয়া এবং ব্যাংকগুলির সঙ্গে সমন্বর করতে বলেছেন। ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মরিসন বলেছেন, ‘এটি খুব সহজ কাজ। বিশেষত বাণিজ্যিক ভাড়াটেদের কাছে আমার বার্তা, আপনারা আপনার বাড়িওয়ালার সঙ্গে কথা বলুন, সমাধান হয়ে যাবে। সমঝোতার মাধ্যমে কাজ করার দরকার রয়েছে। করোনাভাইরাস সঙ্কট অতিক্রম না হওয়া পর্যন্ত ভাড়াটিয়াদের সাথে বাড়িওয়ালাদের চুক্তিগুলো স্থগিত রাখার ব্যাপারে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এর জন্য কোনো আইনগত বিধি নেই। তবে সকল বাড়ির মালিকদের এটা মেনে নিতে হবে।’

অস্ট্রেলিয়ায় এরই মধ্যে ৩ হাজার ৯৬৯ জন মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তের হার ব্যাপক হলেও ভাইরাসের কারণে মৃত্যু হয়েছে ১৬ জনের।