বুধবার, ১লা এপ্রিল, ২০২০ ইং ১৮ই চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ফেসবুকে লাইক দেয়ার জেরে হোমনায় যুবককে জবাই করে হত্যার হুমকি

news-image

নিজস্ব প্রতিনিধি, হোমনা : কুমিল্লার হোমনায় ফেসবুকে লাইক দেয়ার জের ধরে এক যুবককে জবাই করে হত্যার হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে রাজউক প্রকৌশলির বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে হোমনা থানায় সাধারণ ডায়েরী করেন উপজেলার ঘারমোড়া ইউনিয়নের মনিপুর গ্রামের মৃত আবদুল মতিনের ছেলে মো. রাসেল নামের এক যুবক। হুমকিদাতা ঢাকা রাজউক প্রকৌশলি বদিউল আলম টিপু একই গ্রামের বাসিন্দা।

থানার সাধারণ ডায়েরী অনুযায়ী জানা যায়, ঢাকার রাজউক প্রকৌশলি ও মনিপুর গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে মো. বদিউল আলম টিপুর সাথে নরসিংদীর বহিঃস্কৃত যুবমহিলালীগ সভানেত্রী পাপিয়ার সম্পৃক্ততা ছিলো উল্লেখ্য করে স¤প্রতি একটি দৈনিক খবরের কাগজে সংবাদ প্রকাশ হয়। প্রকাশিত ওই সংবাদটি ফেসবুকে পোষ্ট করেন জৈনিক এক ব্যক্তি। আর সেই পোষ্টে লাইক দেয়ায় জেরে নারায়নপুর গ্রামের এক দরিদ্র যুবক মো. রাসেল। এরই জেরে মোবাইল ফোনে লাইকের বিষয়ে জানতে চেয়ে রাসেলকে ২৩ মার্চের পর যেখানেই পাবে সেখান থেকেই তাকে তুলে এনে জবাই করে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেয় বদিউল আলম টিপু।

ভিকটিম রাসেল জানায়, আমি মোবাইল চালাতে তেমন জানিনা। আমাকে ধমক দেয়ায় আমি মাফ চেয়েছি এবং বলেছি হয়তো আমার ছোট বাচ্চাটায় লাইক দিতে পারে। এরপরও আমাকে জবাই করে হত্যা করবে বলে হুমকি দেয়। আমি থানায় জিডি করেছি এবং হুমকির সেই রেকডিং থানায় জমা দিয়েছি। এর আগেও আমাকে অপরহরণ করে ৫০ হাজার টাকার মুক্তিপণ আদায় করে একটা মহল। থানায় অভিযোগ দিলে কোন বিচার পাইনি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হত্যার হুমকির বিষয়টি অস্বিকার করে প্রকৌশলী বদিউল আলম টিপু জানান, আমি আসলে তাকে জবাই করে হত্যার কোন হুমকি দেইনি। সে আমার প্রতিবেশী বিধায় তাকে ফোনে বলেছি, আমার বিরুদ্ধে ফেসবুকের অপপ্রচারের পোষ্টে তুই লাইক দেস কেনো।

আমিত অধিকার থেকে বলেছি তর এই লাইকে আমি মাইন্ড করেছি। আসলে তার ও দোষ নাই। সেখানকার একটা মহলের কাছ থেকে আমি ৮লাখের বেশি টাকা পাই। সেই টাকা চাইলেই ওই মহলটা একেক সময় একেক রকম মিথ্যা অপপ্রচার চালায়। এটাও এর একটা অংশ। এর আগের অপহরণের বিষয়ে তিনি নিজে থেকেই বলেন, সে আত্মগোপনে গিয়ে এলাকার মানুষকে হয়রানী শুরু করে দিয়েছিলো। তখন পুলিশের মাধ্যমে আমিই তাকে উদ্ধার করি।

তবে এলাকাবাসী বলছে এর আগেও বদিউল আলম টিপুর পরিবারের জেদের গরম পানিতে সেখানকার এক চা দোকানদারের শরীরের ৪০ শতাংশ জলসে গিয়েছিলো। সে বিষয়টিও প্রশাসনের যোগসাজসে ধামাচাপা পরে যায়। রাসেল নিজে আত্মগোপনে নয়, তাকে অপহরণ করে কোন নাটক করতে চেয়েছিলো একটি মহল।
হোমনা থানায় সাধারন ডায়েরীর বিষয়টি নিশ্চিত করেন থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল কায়েস আকন্দ। তিনি বলেন, প্রকৌশলি বদিউল আলম টিপু’র বিরুদ্ধে থানায় সাধারন ডায়েরী করেছে রাসেল নামের এক যুবক। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।