শুক্রবার, ৩রা এপ্রিল, ২০২০ ইং ২০শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

শ্বাসকষ্টে বৃদ্ধার মৃত্যু, ‘হোম কোয়ারেন্টাইনে’ ১০ বাড়ির সবাই

news-image

নিজস্ব প্রতিবেদক : জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় শ্বাসকষ্ট রোগে মারা যাওয়া সেই বৃদ্ধার নমুনা সংগ্রহ করেছে আইইডিসিআর। এরপর তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী, গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

তবে ওই বৃদ্ধার পরিবারসহ প্রতিবেশীদের ১০টি বাড়ির সব লোকজনকে ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টিনে থাকারও নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। জামালপুরের সিভিল সার্জন ডা. গৌতম রায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মারা যাওয়া বৃদ্ধার পরিবার ও স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সকাল ৭টার দিকে উপজেলার নিলক্ষিয়া ইউনিয়নের উত্তর কুশলনগর গ্রামে নিজ বাড়িতে মারা যান ওই বৃদ্ধা। দীর্ঘদিন ধরে তিনি শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ভুগছিলেন। ঢাকায় উত্তরার আজমপুর এলাকায় রেললাইনের পূর্ব পাশে তার রিকশাচালক ছেলের ভাড়া বাসায় থাকতেন তিনি।

শ্বাসকষ্টের সমস্যায় গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে গত শনিবার রাতে ঢাকা থেকে বকশীগঞ্জে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন পরিবারের স্বজনরা। মঙ্গলবার সকালে তার মৃত্যুর বিষয়টি জানাজানি হলে করোনাভাইরাস সংক্রমণে তিনি মারা গেছেন কিনা, এ নিয়ে স্থানীয় লোকজনের মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। তাদের মধ্যে নানা শঙ্কা ও ভয়ভীতি ছড়িয়ে পড়ে।

খবর পেয়ে বকশীগঞ্জের ইউএনও জামশেদ খোন্দকার, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রতাপ নন্দী ও বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম ওই গ্রামে যান। তারা এলাকাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মরদেহ দাফন কিছুক্ষণের জন্য স্থগিত করেন।

উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিষয়টি ঢাকায় আইইডিসিআরে যোগাযোগ করা হলে করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়ার জন্য নমুনা সংগ্রহ শেষে মরদেহ দাফনের নির্দেশনা দেন আইইডিসিআর কর্তৃপক্ষ। পরে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জামালপুরের সিভিল সার্জন ডা. গৌতম রায়, ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. কে এম শফিকুজ্জামান, ইউএনও জামশেদ খোন্দকার ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রতাপ নন্দী স্থানীয় হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মীদের নিয়ে নমুনা সংগ্রহের জন্য ওই বাড়িতে যান।

এদিন রাত সোয়া ৭টার দিকে পিপিই পরে বৃদ্ধার মরদেহ থেকে প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করেন বকশীগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালের মেডিকেল টেকনোলোজিস্ট (ল্যাব) মো. সাইফুল ইসলাম। নমুনা সংগ্রহের পর একজন করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীর মরদেহ দাফনের নিয়ম অনুসরণ করেই রাত সাড়ে ৯টার দিকে ওই বৃদ্ধার মরদেহ দাফন করা হয়।

জামালপুরের সিভিল সার্জন ডা. গৌতম রায় বলেন, ‘ওই বৃদ্ধা করোনাভাইরাস আক্রান্ত ছিলেন কিনা এ নিয়ে জনমনে সন্দেহ রয়েছে। তার পরিবারের স্বজনরা জানিয়েছেন, ওই বৃদ্ধার দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্টজনিত রোগ ছিল। তার বয়স আনুমানিক ৭৫ বছর। জনমনে সন্দেহ থাকায় তার মরদেহ থেকে কিছু নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এখন রাতেই সেই নমুনা বিশেষ ব্যবস্থায় ঢাকায় আইইডিসিআরে পাঠানোর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘নমুনা পরীক্ষার প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত মৃতের পরিবারের বাড়িসহ প্রতিবেশীদের ১০টি বাড়ির সব লোকজনকে ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’