সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ ৬ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

হাতের কাছে ওষুধ না থাকলে যা করবেন

news-image

অনলাইন ডেস্ক : করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের এমন সময়ে সাধারণ অসুস্থতায় ভুগতে পারেন অনেকে। সংকটময় মুহূর্তে হাতের কাছে কোনো ওষুধ নাও পেতে পারেন, কিংবা ফার্মেসিতে ওষুধের সরবরাহও কমে যেতে পারে। এতে ওষুধের ওপর নির্ভর না করে ঘরের মধ্যেই কিছু পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারেন।

ব্যথায় গরম পানির ব্যাগ

এই মুহূর্তে শরীরের পেশিতে ব্যথা উঠলে পেইনকিলার বা ব্যথানাশক ওষুধ নিয়ে চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। এর জন্য ব্যবহার করতে পারেন গরম পানির ব্যাগ। গরম তোয়ালে দিয়ে ভাব নিতে পারেন। কোথাও আঘাত পেলে বা হাত-পা মচকে গেলে বরফ লাগাতে পারেন।

কফ-কাশিতে মধু

কফ-কাশি সাধারণ ফ্লু। তবে করোনাভাইরাসেরও উপসর্গ এগুলো। তবে এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। প্রাথমিক ওষুধ হাতের কাছে না থাকলে মধু খেতে পারেন। মধুমিশ্রিত গরম পানি এতে ভালো কাজ দেবে। মধুর মধ্যে এমন গুরুত্বপূর্ণ উপাদান আছে যা ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস দূর করে। এসব উপাদান থাকে কাশির সিরাপেও।

স্বাস্থ্য গবেষণায় বিখ্যাত ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান কোকরেন ২০১৮ সালে মধু নিয়ে ছয়টি পরীক্ষা চালায়। এতে তারা দেখেন যে, শিশু-কিশোরদের কফ-কাশির জন্য ওষুধ হিসেবে দারুণ উপকারী মধু। তবে ১২ মাসের কম বয়সী শিশুদের জন্য এটি প্রযোজ্য নয় বলে তারা জানান।

কানের সমস্যায় অলিভ ওয়েল

হঠাৎ কান বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে অনেকের। সার্বক্ষণিক হেডফোন ব্যবহার করলে এ রকমটা হতে পারে। কিংবা কটনবাড ব্যবহার করতে গিয়ে সেটি কানের ভেতরে আটকে যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে অনেকে হাইড্রোজেন পারওক্সাইড মিশ্রিত কিছু তরল ওষুধ বা স্প্রে প্রোডাক্ট ব্যবহার করে থাকে। যা কানের ভেতরটা নরম করে, আলগা করে ফলে আটকে যাওয়া জিনিস সহজে বেরিয়ে আসে। এখন সেই লিকুইড হাতের কাছে না থাকলে এর বদলে অলিভ ওয়েল ব্যবহার করুণ।

কোকরেন ইউকে এর ডিরেক্টর অধ্যাপক মার্টিন বার্টন জানান, কানের ভেতরে কয়েক ফোঁটা অলিভ ওয়েল ফেললেই কান নরম হয়ে যাবে। অলিভ ওয়েল না থাকলে তিনি এ ক্ষেত্রে পানি ব্যবহার করতে বলেন।

রোদ থেকে নিন ভিটামিন ডি

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য ভিটামিন সি গ্রহণ করতে পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে এক কোকরেনের ২০১৩ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, সুস্বাস্থ্যের অধিকারী বা যারা নিয়মিত দৌড়াদৌড়ি করেন তাদের সর্দি কাশি দূর করতে বেশি কাজ দেয় ভিটামিন সি। ফলে সবাই যে এর থেকে সুবিধা নিতে পারবেন, তেমন নয়।

এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি উপকারী ভিটামিন ডি। এ ক্ষেত্রে ট্যাবলেট বা ক্যাপসুল নিতে অনেকে অভ্যস্ত। কিন্তু এই মুহূর্তে ওষুধ স্বল্পতা থাকলে সূর্যের রোদই হচ্ছে অধিক কার্যকর। ভিটামিন ডি মূলত ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাসকে দুর্বল করতে প্রোটিনকে সাহায্য করে।

সূর্যের রোধ ছাড়াও তৈলাক্ত মাছ কিংবা মাশরুম খেতে পারেন। এগুলো থেকেও ভিটামিন ডি আহরণ করতে পারেন। তবে সেগুলো বেশি পরিমাণে খেতে হবে।

আগুনে পোড়া ক্ষতে অ্যালোভেরা, মধু

কোথাও পুড়ে গেলে অ্যালোভেরার তাজা রস বের করে ক্ষতস্থানে লাগিয়ে নিন। পোড়া জায়গায় অ্যালোভেরা লাগিয়ে দিলে কিছুক্ষণের মধ্যেই ত্বকে শীতল অনুভূতি পাওয়া যাবে এবং জ্বালা ভাব কমে যাবে। প্রথমে পোড়া জায়গাটা ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। এরপর এক টুকরো অ্যালোভেরার পাতা থেকে তাজা রস বের করে পোড়া স্থানে লাগিয়ে নিন। এভাবে দিনে বেশ কয়েকবার লাগান।

ছোটখাটো পুড়ে যাওয়া ক্ষতস্থানে মধু দিলে কিছুক্ষণের মধ্যেই জ্বালা পোড়া ভাব কমে যায়। মধু হলো প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপটিক। তাই পোড়া জায়গায় মধু লাগালে জীবাণু নিধন করে ইনফেকশনের ঝুঁকি কমিয়ে দেয় ও দ্রুত শুকাতে সহায়তা করে।