শুক্রবার, ৩রা এপ্রিল, ২০২০ ইং ২০শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

মহাসড়কে  মৃত্যুর মিছিল বেড়েই চলেছে!

news-image
 সড়কজুড়ে উৎসুক মানুষের ঢল। সবার দৃষ্টি ছিল শুধু সেই মাইক্রোবাসটির দিকে। ১০ জন যাত্রী নিয়ে যে মাইক্রোবাসটি মাজার জিয়ারতের উদ্দেশ্যে সিলেট যাচ্ছিল। কিন্তু শুক্রবার (০৬ মার্চ) ভোর রাত সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার ভাটি কালিসীমা এলাকায় যাত্রীবাহী একটি বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে মাইক্রোবাসটিতে থাকা ছয়জন মারা যান। সংঘর্ষের পরপরই মাইক্রোবাসটির সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয় এবং আগুন ধরে যায়। এসময় ভেতরে থাকা যাত্রীরা অগ্নিদগ্ধ হয়।
রাত গভীর হওয়ায় তাদের উদ্ধারের জন্য আশেপাশে তেমন কেউ ছিল না। এ যেন এক নীরব আত্মচিৎকার। যেন এক বিভীষিকাময় পরিবেশ চারপাশে। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, মাইক্রোবাসটি পুড়ে ও দুমড়ে-মুচড়ে গেছে । নিহত যাত্রীরা অগ্নিদগ্ধ হয়ে পুড়ে যাওয়ায় তাদের
পরিচয় শনাক্ত করা যাচ্ছে না সংশ্লিষ্টদের। সড়কে ছিটিয়ে আছে গাড়ির ভাঙা গ্লাস। সড়কের বিপরীত পাশে পড়ে লিমন পরিবহনের বাসটি।যার সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে নিভে যায় ছয়টি প্রাণ। নিহত ৬ জনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হচ্ছেন নারায়নগঞ্জের বন্দর থানার দেউলী গ্রামের সোহান,সাগর,রিফাত,হারুন, ইমন ও শাকিল।
এ ঘটনায় আহত ৪ জনজিসান,শাহিন,বিজয় ও অজ্ঞাত আরেকজনকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তির পর ঢাকায় প্রেরন করা হয়। জানা গেছে হতাহতরা সবাই একটি
মাইক্রোবাসে করে সিলেট মাজার জিয়ারতের উদ্দেশ্য যাচ্ছিলেন। নিহতদের লাশ
ঘটনাস্থল থেকে উদ্বার করে হাটিখাতা হাইওয়ে ফাড়িতে রাখা হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার হাটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)
মাইনুল ইসলাম জানান- নারায়নগঞ্জ থেকে সিলেটগামী মাইক্রোবাস এবং
সুনামগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী রিমন পরিবহনের একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে এ
দূর্ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের পর মাইক্রোবাসটির গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে
আগুন ধরে যায়। আর বাসটি পাশের খাদে উল্টে পড়ে। তবে হাইওয়ে পুলিশ
জানিয়েছে এতে বাসযাত্রীরা তেমন কোন আঘাত পাননি।
অপরদিকে ,ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় ট্রাকচাপায় মাসুম ব্যাপারী (৩৫)
নামে এক মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়েছে।বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের উপজেলার মালিহাতা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। মাসুম ব্যাপারী আশুগঞ্জ তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে চাকরি করতেন। তিনি মানিকগঞ্জ জেলার আব্দুর রউফ ব্যাপারীর ছেলে।এসময় তার সঙ্গে থাকা আরমান (২৪) ও মোশাররফ (২৮) নামে আরো দুই আরোহী গুরুতর আহত হন। তাদের উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তারা সবাই আশুগঞ্জ তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র কলোনির বাসিন্দা।
সরাইল খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) প্রেমধন মজুমদার জানান,
রাতে মোটরসাইকেলে করে ওই তিনজন সরাইলে আসছিলেন। পথে মালিহাতা এলাকায় এলে
পেছন থেকে আসা সিলেটগামী একটি ট্রাক মোটরসাইকেলটিকে চাপা দিয়ে পালিয়ে
যায়। এতে ঘটনাস্থলেই মাসুমের মৃত্যু হয় আর গুরুতর আহত হন আরমান ও মোশারফ।
তিনি আরো জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতাল
মর্গে পাঠানো হয়েছে।