বৃহস্পতিবার, ৬ই আগস্ট, ২০২০ ইং ২২শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ফুলেল শ্রদ্ধায় সারা দেশে শহীদ স্মরণ

news-image

আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে গৌরব অর্জনের দিনে সারাদেশে ভাষা শহীদদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন সর্বস্তরের মানুষ।

দেশের বিভিন্ন এলাকায় দিবসের প্রথম প্রহরে খালি পায়ে প্রভাতফেরির মিছিল নিয়ে শহীদ বেদিতে ফুল দেওয়ার পর হয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা।আমাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া ডটকম প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:

বাগেরহাট

জেলা শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জেলা প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।সকালে শহরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা শহীদ বেদিতে ফুলেল শ্রদ্ধা জানান।

প্রথমে জেলা প্রশাসনের পক্ষে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ, পুলিশ সুপার পংকজ চন্দ্র রায় শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে একে একে জেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, শ্রমিক লীগ, কৃষক লীগ, তাঁতী লীগ, সিপিবি, ছাত্র ইউনিয়ন, প্রেসক্লাবসহ নানা সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠন শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।দিবসটি উপলক্ষে রক্তদান, আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জেলা প্রশাসন।এছাড়া জেলার সব উপজেলা প্রশাসনও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে নানা কর্মসূচি পালন করে।

কুমিল্লা

ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা আর বিনম্র ভালবাসা জানিয়ে কুমিল্লায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে। শ্রদ্ধা জানাতে আসা লোকজন রাষ্ট্রের সর্বস্তরে বাংলা ভাষা চালুতে হাইকোটের রায় কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন।

দিবসটি উপলক্ষে প্রথম প্রহরে ১২টা ১ মিনিটে কুমিল্লা টাউনহল মাঠে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য আঞ্জুম সুলতানা সীমা, জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর। এরপর শ্রদ্ধা জানায় জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলামের নেতৃত্ব পুলিশ প্রশাসনের একটি দল।
শহীদ মিনারে আগতদের কণ্ঠে ধ্বনিত হয় ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি…’গানটি।
কুমিল্লা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, কুমিল্লা টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরাম, বিএমএ জেলা আইনজীবী সমিতিসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে।

ভোর ৬টা থেকে শহীদ বেদিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী ও জেলার স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা ফুল হাতে নগ্ন পায়ে হেটেঁ সারিবদ্ধভাবে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে।দিবসটি উপলক্ষে একুশে বিষয়ক চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, শিশুদের চিত্রাঙ্কন, রচনা প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভার আয়োজন করে জেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন।

ফরিদপুর

প্রথম প্রহরে রাত ১২টা ১ মিনিটে জেলা শহরের অম্বিকা ময়দানে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রথম ফুল দেন ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন।পরে জেলা প্রশাসক অতুল সরকার, পুলিশ সুপার মো. আলীমুজ্জামান, ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, প্রেসক্লাব, মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা ফুল দিয়ে শহীদদের শ্রদ্ধা জানান।
সকাল ৮টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে প্রভাতফেরি বের হয়। এটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে অম্বিকা ময়দানে গিয়ে শেষ হয়।

গাজীপুর

একুশের প্রথম প্রহরে রাত ১২টা ১ মিনিটে গাজীপুর মহানগরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এসএম তরিকুল ইসলাম, পুলিশ কমিশনার মো. আনোয়ার হোসেন, গাজীপুরের পুলিশ সুপার শামসুন্নাহা। তাদের সঙ্গে ছিলেন বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী।এছাড়া রাতেই গাজীপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. মুজিবুর রহমান, সম্পাদক শাহ শামসুল হক রিপন নেতৃত্বে সাংবাদিকরা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দেন।জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মধ্যে চিত্রাঙ্কন, কবিতা আবৃত্তি, সুন্দর হাতের লেখা, শুদ্ধভাবে বাংলা পাঠ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

শুক্রবার সকালে ভাওয়াল মির্জাপুর কলেজের অধ্যক্ষ মো. এনামুল হকের নেতৃত্বে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ও কর্মচারীরা কলেজ আঙ্গিনায় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তারা ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

ময়মনসিংহ

ময়মনসিংহে বিনম্র শ্রদ্ধা আর গভীর ভালবাসায় স্মরণ করা হয়েছে বাংলা ভাষার জন্য জীবন উৎসর্গকারী ভাষা শহীদদের। শ্রদ্ধার ফুলে ছেয়ে গেছে শহরের টাউন হলের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদি।
একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান প্রশাসনিক কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দল, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষ।

রাত ১২টা ১ মিনিটে প্রথমে শহীদ মিনারে ফুল দেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ। পরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মনিরা সুলতানা মণি, সিটি করপোরেশনের মেয়র ইকরামুল হক টিটু।

ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় কমিশনার নিরঞ্জন দেবনাথ, পুলিশের ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি হারুন অর রশীদ, জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমান, পুলিশ সুপার মো. আহমার উজ্জামান, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ইউসুফ খান পাঠান শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

শুক্রবার ভোর থেকে বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

নওগাঁ

নওগাঁয় যথাযোগ্য মর্যাদা ও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হচ্ছে।

দিবসের প্রথম প্রহরে রাত ১২টা ১ মিনিটে শহরের মুক্তির মোড় কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে ফুল দিয়ে কর্মসূচি শুরু করা হয়। জেলা প্রশাসক মো. হারুন-অর-রশীদ, পুলিশ সুপার আবদুল মান্নান মিয়া, নওগাঁর জেলা ও দায়রা জজ এ কে এম শহীদুল ইসলাম, জেলা প্রেসক্লাবের সাংবাদিকসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সদস্যরা ফুল দেন শহীদ বেদিতে।

রাজশাহী

একুশের প্রথম প্রহরে খালি পায়ে আসা মানুষের পদভারে জেগে ওঠে স্মৃতির শহীদ মিনার। রাজশাহী কলেজ শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, সিটি পুলিশের কমিশনার হুমায়ুন কবির, রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ হবিবুর রহমান, নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও মেয়রপত্নী শাহীন আক্তার রেনী, সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মীর ইকবাল, নওশের আলী, সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাঈমুল হুদা রানাসহ নগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।
পরে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা রাজশাহীর সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনুর নেতৃত্ব দলের নেতাকর্মীরা শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এ সময় নগর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ও সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন উপস্থিত ছিলেন।

পরে রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ হবিবুর রহমানের নেতৃত্বে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা শহীদ মিনারে ফুল দেন। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের পক্ষ থেকেও এই শহীদ মিনারে ফুল দেওয়া হয়।

শেরপুর

একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে শেরপুর শহরের চকবাজার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়েছেন সকল স্তরের মানুষ।

দিবসের প্রথম প্রহরে রাত ১২ টা ১ মিনিটে জেলা প্রশাসক কলি মাহবুব, পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীম শহীদদের স্মরণে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন। পরে জেলা বিচার বিভাগ, জেলা আওয়ামী লীগ, শেরপুর পৌরসভা, জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট, জেলা সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম, নাগরিক সমাজসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের পক্ষ থেকে ভাষা শহীদদের স্মরণে ফুল দেওয়া হয়।