সোমবার, ২০শে জানুয়ারি, ২০২০ ইং ৭ই মাঘ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ব্যর্থতা ঢাকতেই নাগরিকত্ব আইন সংশোধন মোদির : জরিপ

news-image

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতের ভয়াবহ মন্দা, মূল্যবৃদ্ধি আর বেকারত্বের মত ব্যর্থতাগুলো ঢাকতেই নরেন্দ্র মোদি সরকার দেশটিতে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) এবং জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন (এনআরসি) করেছে বলে মনে করছেন পশ্চিমবঙ্গের অধিকাংশ মানুষ।

এবিপি আনন্দ এবং সিএনএক্স’র এক যৌথ জরিপে এসব তথ্য উঠে আসে। জরিপে দেখা যায়, ‘৬৩ শতাংশ মানুষ মনে করছেন, মন্দা, মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব থেকে নজর ঘোরাতে কেন্দ্র সরকার নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন এবং জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন (এনআরসি) সামনে এনেছে।’

পশ্চিমবঙ্গের মানুষের দাবি, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনটি সংবিধানের মূল ধারার বিরোধী। তবে আইনটির বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলনে যে সহিংস ঘটনা ঘটছে তাও সমর্থন করছেন না বেশিরভাগ জনগণ।

জরিপে আরও দেখা যায়, পশ্চিমবঙ্গের ৫০ শতাংশ মানুষ মনে করেন ধর্মীয় বিভাজনের জন্যই মোদি সরকার নাগরিকত্ব আইন সংশোধন করেছে। আবার ৪৩ শতাংশ মানুষের ধারণা, এতে লাভবান হবে বিজেপি। ৫৫ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, তারা চান না দেশে নাগরিক পঞ্জি চালু হোক। এনআরসি চেয়েছেন ৪১ শতাংশ মানুষ।

মঙ্গলবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারে প্রকাশিত এক খবরে বলা হয়, যদিও এই ধরনের জরিপকে গণভোট হিসেবে ধরা উচিত নয়, তবু জনমতের একটি প্রতিফলন এতে দেখা যায়। এবিপি আনন্দ’র জরিপটি করা হয়েছে গত সপ্তাহের বুধ ও বৃহস্পতিবার, অর্থাৎ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কলকাতা সফর ও তার প্রতিবাদে শহর উত্তাল হওয়ার আগে। জরিপে দুই হাজার ১৩৪ জনের মতামত নেওয়া হয়েছে।

জরিপের ফল প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘এতেই প্রমাণিত আমরা ঠিক পথে চলছি। আমাদের নেত্রী আন্দোলন সঠিক দিশায় পরিচালনা করতে জানেন। সমর্থনের হার দিনে দিনে আরও বাড়বে।’

তবে ভিন্ন মত প্রকাশ করে সিপিএম’র পলিটব্যুরো সদস্য মহম্মদ সেলিম বলেন, ‘প্রতিদিন এই আন্দোলনের চেহারা বদলাচ্ছে। যা জরিপে ধরা পড়বে না। দুই সরকারের উপর আস্থা চলে যাওয়ায় মানুষ পথে নেমেছে। সেই মেজাজ এভাবে বোঝা কঠিন।’

আর কংগ্রেসের লোকসভার দলনেতা অধীর চৌধুরী বলেন, ‘মোদী-দিদি বৈঠকের পরে পরিস্থিতি বদলে গেছে। অনেকেই মনে করছেন তৃণমূলের বিজেপি-বিরোধিতা আসলে নাটক। নির্বাচনও অনেক দূরে। এখনই এসব বলা যাবে না।’

অন্যদিকে, বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘যদি এত মানুষ সিএএ’র বিরুদ্ধে রাস্তায় নামতো তাহলে আমরা তো হাঁটতেই পারতাম না। উদ্বাস্তু ও মতুয়াদের এই জরিপ ধরা হয়েছে বলে মনে হয় না।’

জরিপের অন্যান্য তথ্য অনুযায়ী, সিএএ’র পক্ষে সমর্থন রয়েছে ৪৩ শতাংশ মানুষের। ৭১ শতাংশ মানুষের মতে, সিএএ’র বিরুদ্ধে সারা দেশে আন্দোলনে অবশ্যই অস্বস্তিতে পড়েছে মোদি সরকার। ৫৯ শতাংশ মানুষ মনে করেন, এই আন্দোলনের জেরেই এনআরসি নিয়ে নিজেদের অবস্থান বদলাতে বাধ্য হয়েছেন মোদি ও বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ।

তবে ৬৮ শতাংশ মানুষ বলেছেন, সিএএ’র প্রতিবাদ জানাতে বাসে-ট্রেনে আগুন লাগানোর মতো হিংসাত্মক পদ্ধতি নেওয়া ঠিক হয়নি।