সোমবার, ২৭শে জানুয়ারি, ২০২০ ইং ১৪ই মাঘ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রাম-৮ আসনে আ’লীগের মোছলেম উদ্দিন জয়ী

news-image

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও-পাঁচলাইশ) আসনের উপনির্বাচনে জয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোছলেম উদ্দিন আহমদ।

১৭০টি ভোটকেন্দ্রের সবক’টির চূড়ান্ত ফলাফলে মোছলেম উদ্দিন পেয়েছেন ৮৭ হাজার ২৪৬ ভোট। আর তার প্রতিদ্বন্দ্বী আবু সুফিয়ান পেয়েছেন ১৭ হাজার ৯৩৫ ভোট। চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচটি ইউনিয়ন এবং জেলা বোয়ালখালী উপজেলার একটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়ন নিয়ে চট্টগ্রাম-৮ আসনটি গঠিত।

জেলা নির্বাচন কমিশন অফিসের রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসানুজ্জামান বলেন, উপনির্বাচনে ২২ দশমিক ৯৪ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছেন। সব মিলিয়ে মোট বৈধ ভোটের সংখ্যা এক লাখ আট হাজার ৫৮১। এই আসনে মোট ভোটার চার লাখ ৭৫ হাজার ৯৮৮ জন। এর মধ্যে বোয়ালখালী উপজেলায় ভোটার এক লাখ ৬৪ হাজার। আর শহরে তিন লাখ ১১ হাজার ৯৮৮ জন।

এদিকে ভোট চলাকালেই সোমবার দুপুরে জালিয়াতির অভিযোগে নির্বাচন স্থগিত করে পুনর্নির্বাচনের দাবিতে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে চিঠি দেন বিএনপি প্রার্থী আবু সুফিয়ান।

সোমবার রাতে নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হয় চট্টগ্রাম নগরীর আউটার স্টেডিয়ামসংলগ্ন জিমনেশিয়াম ভবনে। ফল ঘোষণাকালে উপস্থিত ছিলেন মোছলেম উদ্দিন আহমদও। নিজের আসন থেকে তৃতীয়বারের মতো নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয়ের মুখ দেখলেন তিনি।

ফল ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমার ওপর আস্থা রাখায় আমি তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। এখন আমার প্রধান কাজই হচ্ছে এলাকাবাসীকে আমি যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, সেগুলো বাস্তবায়ন করা।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, প্যানেল মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম প্রমুখ।

মোছলেম উদ্দিন পার্শ্ববর্তী পটিয়া আসন থেকে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন। কিন্তু দু’বারই বিএনপি প্রার্থী গাজী শাহজাহান জুয়েলের কাছে অল্প ভোটের ব্যবধানে হেরে যান। অন্যদিকে, দ্বিতীয়বারের মতো হেরে গেলেন আবু সুফিয়ান। এর আগে ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। ওই নির্বাচনে প্রয়াত জাসদ নেতা মইনউদ্দীন খান বাদলের কাছে পরাজিত হন তিনি।

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিলেও তাতে ভোটের আমেজ ছিল না। ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেওয়ায় সেটিও ছিল উত্তাপহীন। তবে এবারের উপনির্বাচনের চিত্র ছিল একেবারেই ভিন্ন। পরস্পরের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে প্রচার চালিয়েছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীরা। ভোটারদের মন জয় করতে তারা এলাকার প্রধান সমস্যা কালুরঘাটে নতুন সেতু নির্মাণসহ দিয়েছেন নানা প্রতিশ্রুতি। প্রচার চলাকালে ছিল টানটান উত্তেজনা। কিন্তু গতকাল ভোট গ্রহণের দিন প্রাণচাঞ্চল্য দেখা যায়নি।

নির্বাচনে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের চেয়ারম্যান এস এম আবুল কালাম আজাদ, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের সৈয়দ মোহাম্মদ ফরিদ আহমদ, ন্যাপের বাপন দাশগুপ্ত ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ এমদাদুল হক।