সোমবার, ২০শে জানুয়ারি, ২০২০ ইং ৭ই মাঘ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

দ্বিমুখী চাপে ইরান

news-image

অনলাইন ডেস্ক : ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ইউক্রেনের বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ চাপের মুখে পড়েছে তেহরান। গত রোববার দেশটির সংসদে ইরান রেভ্যুলিউশনারি গার্ডস কর্পসের প্রধান হোসেন সালামি অনিচ্ছাকৃতভাবে বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার কথা বলে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

ইরানের প্রভাবশালী জেনারেল কাসেম সোলেইমানিকে গত ৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে হত্যা করা হয়। এ নিয়ে দু’দেশের মধ্যকার চলমান উত্তেজনার মাঝে ইরান গত বুধবার ইরাকে অবস্থিত মার্কিন দুটি সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। তার ঠিক কয়েক ঘণ্টা পরে ইরানের খোমেনি বিমানবন্দরের কাছে ইউক্রেনের বিমানটি ১৭৬ জন যাত্রী ও ক্রু নিয়ে বিধ্বস্ত হয়। বিমানে থাকা যাত্রী ও ক্রুদের সবাই নিহত হন।

ইরান প্রথমদিকে বিমান বিধ্বস্তের পেছনে তাদের সবরকমের দায় অস্বীকার করলেও পরবর্তীতে তাদের ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার কথা স্বীকার করে। ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেন, ‘অনিচ্ছাকৃতভাবে ঘটা দুর্ঘটনাটিতে তাদের দেশ শোকআহত।’

দায় স্বীকার করে নেওয়ার পর সেদেশে এ নিয়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীরা রোববার রাস্তায় নামলে তাদের ওপর গুলি চালানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, তেহরানের আজাদি স্কয়ারে বিক্ষোভে গুলি চালানোর পর আহতদের সেখান থেকে বয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। রাস্তার ওপর জমাট বাধা ছোপ ছোপ রক্ত পড়ে আছে। এছাড়া বিক্ষোভকারীদের পাশাপাশি ভিডিওটিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পোশাক পরিহিতদের রাইফেল নিয়ে দৌড়াতে দেখা যাচ্ছে।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিতে শোনা যাচ্ছিলো বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দিচ্ছে ‘স্বৈরশাসকের পতন হোক’। তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে আরেকদলকে বক্তব্য দিতে শোনা যাচ্ছিলো, ‘তারা মিথ্যা বলে যে আমেরিকা আমাদের শত্রু, আমাদের শত্রুরা এখানেই ঘাঁটি গেড়ে রয়েছে’।

এদিকে ইরানের ওপর এ ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির আওতায় নেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘বিমানে থাকা ৫৭ কানাডিয়ানসহ নিহত সকলের পরিবার যথার্থ বিচার পাওয়ার আগ পর্যন্ত কানাডা ক্ষান্ত হবে না।’

অন্যদিকে ইরানের মাটিতে ছড়িয়ে পড়া অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ করে ব্রিটিশ অ্যাম্বাসেডর রব ম্যাকএয়ারকে সাময়িক গ্রেপ্তার করার ঘটনায় ইরান নতুন করে সমালোচনার শিকার হচ্ছে। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডমিনিক রাব একে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন। জার্মান ও ফ্রেঞ্চ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ঘটনায় যুক্তরাজ্যের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেছে।

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি এ বিষয়ে এক বক্তব্যে রোববার বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে এ অঞ্চলের দেশগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক অন্যান্য সময়ের তুলনায় সর্বোচ্চ শক্তিশালী অবস্থায় থাকা ও বিদেশিদের প্ররোচনাকে এড়িয়ে চলা প্রয়োজন।’