সোমবার, ৩০শে মার্চ, ২০২০ ইং ১৬ই চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

“ভয়ংকর ছিনতাইকারী হিরন” পুলিশ গুলি করেও তাকে রুখতে পারছে না

আরিফুল ইসলাম সুমন, সরাইল : টার্গেট তার স্মার্ট ফোন। ভোররাতে রাস্তায় একা কাউকে দেখলেই আচমকা সামনে এসে দাঁড়িয়ে গলায় ছুরি ধরে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া তার পেশা। নাম তার হিরন মিয়া। পিতা মৃত আবন মিয়া। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল সদরের নিজসরাইল গ্রামে তার বাড়ি।

স্থানীয়দের তথ্যমতে সে একজন ভয়ংকর ছিনতাইকারী। ছিনতাইয়ের এলাকা হিসেবে সে ‘নিজসরাইল’ গ্রামকেই বেছে নিয়েছে। তার বেপরোয়া অপকর্মে গ্রামের মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। তার ছিনতাইয়ের কলাকৌশলও ভিন্ন। দিনে ও সন্ধ্যা রাতে তাকে এলাকায় দেখা যায় না। গভীররাতে সে এলাকায় অবস্থান নেয়। মধ্যরাতে কেউ প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘরের দরজা খুলে বাইরে বেরোলে, সেই সুযোগে ঘরে ঢুকে স্মার্ট ফোন চুরি করে সে। অনেক সময় বিভিন্ন বাড়ির গ্যাস লাইনে আগুন ধরিয়ে দিয়ে এলাকায় হৈচৈ সৃষ্টি করে, পরে জনশূন্য ঘর-বাড়িতে ঢুকে মোবাইল ফোন চুরি করে নিয়ে যায়। তাকে গ্রেফতারে গ্রামবাসী একাধিকবার থানাপুলিশের সহযোগিতা চেয়েছেন। তবে তাকে গ্রেফতার করতে বহুবার চেষ্টা চালালেও পুলিশ সদস্যরা সফল হতে পারছেন না।

সরাইল থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক শাহজালাল বলেন, কিছুদিন আগে হিরনকে প্রকাশ্যে রাস্তায় গুলি করা হয়। এতেও সে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। সে পুলিশের গ্রেফতার এড়াতে এলাকার বিভিন্ন উঁচু বিল্ডিংয়ের ছাদে লুকিয়ে থাকে এবং সুযোগ বুঝে বেরিয়ে এসে এ অপরাধ কর্মকাণ্ড চালায়। বহুবার তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালানো হয়। সে সবসময় জাম্প জুতা পরিহিত অবস্থায় থাকে এবং সে যেকোনো উঁচু ভবন থেকে লাফিয়ে মাটিতে পড়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

নিজসরাইল গ্রামের লোকজন জানান, হিরন এতোটাই দুর্ধর্ষ তার কাছে ৫/৭জন পুলিশ সদস্য কিছুই না। পুলিশ তাকে প্রকাশ্যে গুলি করেছে, তারপরও সে প্রতিরাতে ছিনতাই করে যাচ্ছে। পুলিশের কথামতো গ্রামের কিছু লোক হিরনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করার সিদ্ধান্ত নেয়। খবর পেয়ে হিরন এলাকায় এসে বিভিন্ন লোকজনকে তার পকেটে থাকা আগ্নেয়াস্ত্রের কয়েক রাউন্ড গুলি বের করে ভয় দেখায় এবং বলে জামিনে বেরিয়ে এসে এসব গুলি ব্যবহার করা হবে। এছাড়া হিরনের কাছে সার্বক্ষণিক ইস্পাতের ধারালো ছুরি থাকে। তাই প্রাণের ভয়ে কেউ তাকে ধরে পুলিশে দেওয়ার সাহস করে না।

এ ব্যাপারে শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাতে সরাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাহাদাত হোসেন টিটো বলেন, হিরনকে গ্রেফতার করতে গতকালও (বৃহস্পতিবার) পুলিশ অভিযান চালিয়েছে। ইরনকে গ্রেফতারে আমরা (পুলিশ) নিজসরাইল গ্রামবাসীর সহযোগিতাও চেয়েছি। কিন্তু তারাও তাকে ধরিয়ে দিতে পারছে না। তবে এ বিষয়ে পুলিশ বসে নেই, যেকোনো অবস্থায় হিরনকে গ্রেফতার করা হবে।