বৃহস্পতিবার, ৬ই আগস্ট, ২০২০ ইং ২২শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ঢাবি ছাত্রীর ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত মজনু ‘সিরিয়াল রেপিস্ট’

news-image

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর কুর্মিটোলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তার যুবক ‘সিরিয়াল রেপিস্ট’ বলে জানিয়েছে র‌্যাব। আগেও প্রতিবন্ধী, ভিক্ষুকসহ অনেক নারীকে ধর্ষণ করেছেন তিনি।

আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে ব্রিফিংয়ে এ কথা জানিয়েছেন র‌্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লে. কর্নেল সারোয়ার বিন কাশেম।

তিনি বলেন, ‘রাজধানীর কুর্মিটোলায় ঢাকা ইউনিভার্সিটির একজন শিক্ষার্থী ধর্ষণের শিকার হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যান্টনমেন্ট থানায় একটি অজ্ঞাত মামলা করা হয়। ঢাকার সমস্ত ব্যাটালিয়ন আমরা একযোগে কাজ শুরু করি। এরই ধারাবাহিকতায় এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সূত্রের ভিত্তিতে আমরা আজ ভোর ৫টায় ঢাকার শেওড়া রেলক্রসিং থেকে এই ধর্ষক, নরপিশাচ মজনুকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই।’

সারোয়ার বিন কাশেম বলেন, ‘মজনু যে অজ্ঞাতনামা আসামি ছিল, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে স্বীকার করে নিয়েছে সে এই ধরনের ঘটনাটি ঘটিয়েছে। যার বয়স আনুমানিক ৩০ বছর। যার বাড়ি হাতিয়া, নোয়াখালী। দীর্ঘ ১০ বছর আগে সে ঢাকায় আসে জীবিকা নির্বাহের জন্য আসে।’

মজনু বিবাহিত ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তার স্ত্রী মারা যাওয়ার পর সে নানা ধরনের অপকর্মে জড়িয়ে পড়ে। তার বাবা মৃত মাহফুজুর রহমান। তার মা জীবিত রয়েছেন। তবে বর্তমানে তার বাড়ির সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ নেই। ১২ বছর আগে সে ট্রেনে যাওয়ার সময় ট্রেন থেকে পড়ে তার দাঁত ভেঙে যায়। তার দাঁত ভাঙার বিষয়টি আমাদের কাছে একটু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

এই র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রাথমিক স্বীকারোক্তিতে সে বলেছে আমাদের কাছে, সে একজন সিরিয়াল রেপিস্ট। সে বিভিন্ন সময় প্রতিবন্ধী ও ভিক্ষুক মহিলাকে নানাভাবে ধর্ষণ করেছে। সে মাদকাসক্ত এবং সে নিরক্ষর।’

তিনি বলেন, ‘ঘটনার বিবরণ যেটা আমরা জানতে পারি, গত ৫ জানুয়ারি আমাদের ভিকটিম কুর্মিটোলা বাসস্ট্যান্ডে নামে তার বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে। পথ ভুল করেই সে এখানে নামে এবং পরবর্তীতে সে যখন নির্জন পথ দিয়ে যাচ্ছিল, মজনু তাকে ফলো করতে করতে কাছে এসে তাকে ধরে গলায় চাপ দিয়ে জাপটে ধরে তাকে একটি ঝোপের আড়ালে নিয়ে যায়। এবং ধর্ষণের মতো বর্বোরোচিত কর্মটি সে এখানে সম্পাদন করে। এই মুহূর্তগুলোতে সে বারবারই তাকে ঘুষি দিচ্ছিল, তাকে চড় দিচ্ছিল এবং তাকে গলা টিপে হত্যার হুমকি দিচ্ছিল। স্বাভাবতই ভিকটিম এই ঘটনায় পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল এবং সে বেশ কয়েকবারই অচেতন হয়ে পড়েছিল। তার যখন চেতনা ফিরে আসে তখন সে সুযোগ বুঝে মজনুর কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে রাস্তার অপরপ্রান্তে গিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে এবং সে সক্ষম হয়।’