রবিবার, ১৫ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং ৩০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

রিক্রুটিং এজেন্সির দায়িত্ব সৌদিতে কর্মরত নারী শ্রমিকদের

news-image

নিউজ ডেস্ক : এখন থেকে নারীকর্মীরা যতদিন সৌদি আরবে কর্মরত থাকবেন ততদিন তার দায়িত্ব সৌদি আরব ও বাংলাদেশের রিক্রুটিং এজেন্সির। আর যে সব নারীকর্মী দেশে প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় আছেন, দেশে ফেরা না পর্যন্ত তাদের আবাসন ও অন্যান্য দায়িত্বও বহন করবে রিক্রুটিং এজেন্সি।

সোমবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত জয়েন্ট টেকনিক্যাল কমিটির বৈঠকের আলোচনার বিস্তারিত তুলে ধরেন প্রবাসী সচিব সেলিম রেজা।

অন্যদিকে সৌদি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো যাতে বাংলাদেশ দূতাবাসের কাছে দায়বদ্ধ থাকে, সে ব্যাপারে একটি নির্দেশনা জারি করা হবে। বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের যৌথ কারিগরি কমিটির সভায় এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

গত ২৭ নভেম্বর সৌদি আরবের রিয়াদে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং সৌদির শ্রম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে তৃতীয় জয়েন্ট টেকনিক্যাল কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বাংলাদেশের পক্ষে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব সেলিম রেজা এবং সৌদির পক্ষে শ্রম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি অ্যাসিস্টেন্ট মন্ত্রী জাবের আব্দুর রহমান আল মাহমুদ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন।

সচিব সেলিম রেজা জানান, জয়েন্ট টেকনিক্যাল কমিটির সভায় যে সব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- নারীকর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আইটি প্ল্যাটফর্ম মোসানেদে কর্মীর বিস্তারিত ঠিকানা, সৌদি ও বাংলাদেশ রিক্রুটিং এজেন্সি এবং নিয়োগকর্তার পূর্ণ যোগাযোগের ঠিকানা, নারীকর্মীর নিয়োগকর্তা পরিবর্তন সংক্রান্ত তথ্যাদি, নারীকর্মীর আগমনের তারিখ এবং নিয়োগকর্তার কাছে হস্তান্তরের তারিখ, প্রত্যাবর্তনকারী গৃহকর্মীর ‘এক্সিট’ সংক্রান্ত তথ্যাদি সন্নিবেশিত করা। ইতিমধ্যে নিয়োগকর্তা পরিবর্তন, নতুন চুক্তি নবায়ন ও এক্সিট সংক্রান্ত তথ্যাদি ছাড়া অন্যান্য তথ্যাদি হালনাগাদ করা হয়েছে এবং অবশিষ্ট তথ্যাদি হালনাগাদের কাজ চলমান রয়েছে। এ ছাড়া সৌদি কর্তৃপক্ষ মোসানেদ সিস্টেমে বাংলাদেশ দূতাবাসের একটি ‘অ্যাপ্রুভাল উইন্ডো’ স্থাপনের বিষয়টি বিবেচনা করবে।

অন্যদিকে যে সব নারীকর্মী কাজ ছেড়ে পলাতক রয়েছেন, তাদের পুলিশ কোনোভাবেই নিয়োগকর্তার কাছে হস্তান্তর করবে না। নারীকর্মী যতদিন কমর্রত থাকবেন, ততদিন তার দায়-দায়িত্ব বাংলাদেশ ও সৌদি রিক্রুটিং এজেন্সি বহন করবে। যে সব নারীকর্মী প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় আছেন, তারা প্রত্যাবর্তন না করা পর্যন্ত তাদের আবাসন ও অন্যান্য দায়িত্ব রিক্রুটিং এজেন্সি বহন করবে। নারীকর্মীরা কর্মকাল পূর্ণ করলে তাদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট এজেন্সি বহন করবে এবং এ বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস ও সৌদি শ্রম মন্ত্রণালয়কে জানাবে।

যদি নারীকর্মী মেয়াদ শেষে কাজ করতে চান তাহলে অবশ্যই চুক্তি নবায়ন করতে হবে এবং এ নবায়ন বাংলাদেশ দূতাবাস কর্তৃক অনুমোদিত হতে হবে। চুক্তি নবায়নের পর সংশ্লিষ্ট এজেন্সি এ সংক্রান্ত তথ্যাদি মোসানেদে আপলোড করবে। এ ছাড়া, কোনো বিপদগ্রস্ত নারীকর্মীর সুরক্ষার বিষয় গুরুতর অভিযোগ উঠলে সৌদি ডিপার্টমেন্ট অব প্রোটেকশন অ্যান্ড সাপোর্ট দ্রুত ব্যবস্থা নেবে। সংশ্লিষ্ট শ্রম কল্যাণ উইং বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আনবেন।

বৈঠকে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের বিয়য়ে সৌদি আরবের সঙ্গে একটি সাধারণ চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি আলোচিত হয়। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, এ বিষয়টি এখনও পরীক্ষাধীন রয়েছে এবং আগামী জয়েন্ট টেকনিক্যাল কমিটির সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হবে। আদালতে মামলা করার পদ্ধতি আরও সহজ করার বিষয়ে দু’পক্ষ একমত হয়েছে। এ বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলোকে শিগগিরই জানাবে।

সব কর্মী যাতে চুক্তির কপি পেতে পারেন, এ লক্ষ্যে সৌদি কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ গ্রহণ করবে। সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি কর্মীদের বিদ্যমান স্বাস্থ্যবীমা পর্যাপ্ত নয়। অসুস্থ কর্মীদের চিকিৎসা নিশ্চিতের লক্ষ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণে স্বাস্থ্যবীমা করার জন্য সৌদি কর্তৃপক্ষ কোম্পানি/নিয়োগকর্তাদের বাধ্য করার উদ্যোগ গ্রহণ করবে বলেও মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সচিব সেলিম রেজা বলেন, সৌদি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো যাতে বাংলাদেশ দূতাবাসের কাছে দায়বদ্ধ থাকে, সে ব্যাপারে একটি নির্দেশনা জারি করতে যাচ্ছি। আমাদের দেশ থেকে এখন যে নারীকর্মীরা যাচ্ছে, তাতে দূতাবাসের কোনো অ্যাপ্রুভাল সিস্টেম বর্তমানে নেই। কিন্তু আমরা মিটিংয়ে বলেছি, ‘মোসানেদ’ সিস্টেমে দূতাবাসকেও একটা অ্যাপ্রুভাল উইন্ডো দিতে হবে। সৌদি কর্তৃপক্ষ নীতিগতভাবে একমত পোষণ করেছে। তবে যেহেতু এটা একটি টেকনিক্যাল ব্যাপার, তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে একটি রাস্তা বের করবে বলে জানিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, একজন কর্মীও যদি বিদেশে নিগৃহীত হয়, তা অবশ্যই সরকারের জন্য উদ্বেগের। তাই প্রতিটি ঘটনার বিচার হতে হবে। কিন্তু মামলা পরিচালনার জন্য অভিযোগকারীকে সেখানে (সৌদি) থাকতে হবে। তার থাকা-খাওয়ার সব ধরনের ব্যবস্থা আছে। কিন্তু কেউ থাকতে চান না। আর সব মামলার ক্ষেত্রে দূতাবাস পাওয়ার অব অ্যাটর্নিও নিতে পারে না।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন, অতিরিক্ত সচিব নাজীবুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব সাবিহা পারভীন, যুগ্ম-সচিব জাহিদ হোসেন, যুগ্ম-সচিব সারোয়ার আলম প্রমুখ।