রবিবার, ১৫ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং ৩০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

রংপুরকে পরিকল্পিত নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে আধুনিক চিন্তার প্রয়োগ ঘটাতে হবে-রংপুর বিভাগীয় কমিশনার

news-image

রংপুর ব্যুরো : রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কেএম তারিকুল ইসলাম বলেছেন, রংপুর নগরীকে পরিকল্পিত নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে আধুনিক চিন্তার প্রয়োগ ঘটাতে হবে। এর জন্য বিভিন্ন মহলের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়ে সিটি কর্পোরেশন, প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগকেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। নিজ নিজ অবস্থান থেকে সকলে সচেতন হয়ে সম্মিলিতভাবে নগরের উন্নয়নে কাজ করতে হবে।

তিনি আজ সোমবার রংপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে “নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন নগরী” শীর্ষক সংলাপ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। বিভাগীয় কমিশনার বলেন, নগরের উন্নয়নে সকলকে দপ্তরগুলোকে সহযোগিতা করতে হবে। সকলের আধুনিক চিন্তা মৌখিক অথবা লিখিতভাবে সিটি কর্পোরেশনের মেয়রকে দিতে পারে নগরবাসী। নগরীতে পর্যাপ্ত খেলারমাঠ, ডে কেয়ার সেন্টার, বয়স্কদের পূর্ণবাসন কেন্দ্র, পশু জবাই করার আধুনিক ব্যবস্থা, নাইট মার্কেট, হলিডে মার্কেটের ব্যবস্থা করতে হবে।

শোভাবর্ধনের পাশাপাশি নগরের সড়কের নামকরণ করে দেশে আত্মত্যাগীদের স্মরনীয় করতে উদ্যোগ নেয়া জরুরী। রংপুরের ঐতিহ্য শ্যামা সুন্দরী খাল পুনরুদ্ধার, শোভাবর্ধনের জন্য কাজ বাস্তবায়ন হচ্ছে। প্রেসক্লাব সভাপতি আব্দুর রশিদ বাবু’র সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাঃ আবদুল আলীম মাহমুদ, জেলা প্রশাসক আসিব আহসান, সিভিল সার্জন হিরম্ব কুমার রায়। সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, মহানগর জাসদের সভাপতি গৌতম রায়, ওয়ার্কাস পার্টি মাজিরুল ইসলাম লিটন, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম সরকার, যুগের আলো’র বার্তা সম্পাদক আবু তালেব, দৈনিক পরিবেশের সম্পাদক একেএম ফজলুল হক, দৈনিক আমাদের প্রতিদিনের সম্পাদক মাহবুব রহমান, মানবাধিকার ও পরিবেশ আন্দোলন-মাপা’র প্রধান নির্বাহী অ্যাড. এএএম মুনীর চৌধুরী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি মোশফেকা রাজ্জাক, আকবর হোসেন, আশরাফুল আল আমিন, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের মধ্যে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব বিপ্লব প্রসাদ, কবি ও উন্নয়ন কর্মী আশাফা সেলিম, শিক্ষক নেতা আব্দুল ওয়াহেদ মিয়া, ডাঃ মফিজুল ইসলাম মান্টু, কমরেড শাহাদাত হোসেন প্রমুখ।

সভায় বক্তারা বলেন, সড়কের বেহাল দশা, যানজট, বায়ু দূষণ, অপরিকল্পিতভাবে ভবন নির্মাণ, ফুটপাট দখলসহ নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত রয়েছে রংপুর সিটি কর্পোরেশন। রংপুর সিটি কর্পোরেশনকে একটি পরিকল্পনায় আনা না হলে অদূর ভবিষ্যতে বসবাসযোগ্যতা হারাবে নগরী। সেই সাথে বাড়বে নাগরিক দূর্ভোগ।

রংপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, নগরীতে বিষাক্ত পরিবেশ তৈরী করতে মানুষজন। ব্যবসায়ীরা সজাগ হলে নগরী ফুটপাত দখলমুক্ত হবে। নগরের আধুনিক সুবিধা নিতে হলে আমাদের নৈতিক দায়িত্ব পড়ে নগরকে ভালো রাখা। বিগত সময়ে শ্যামাসুন্দরী নিয়ে অনেক লুটপাট হয়েছে। শ্যামা সুন্দরী খালের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে কাজ শুরু হয়েছে। বর্তমানে নগরীতে ২৫০ কোটি টাকার কাজ চলমান রয়েছে।

নগরে অপরিকল্পিতভাবে ভবন নির্মাণের ঘটনা ঘটেছে। সিটি কর্পোরেশন থেকে যে নকশা অনুমোদন দেয়া হয়, সেই অনুযায়ী ভবন মালিকরা কাজ করেন না। শতকরা ৮০ ভাগ ভবনই নকশা মেনে নির্মাণ হয়নি। রাস্তার ধারে গড়ে তোলা ভবন, মার্কেটের মালিকরা পার্কিংয়ের জন্য কোন জায়গা ছাড়েনি। নগরের এসব সমস্যা সমাধানে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। আশাকরি নগরবাসী এক হয়ে সংকট কাটিয়ে উঠতে সিটি কর্পোরেশনকে সহযোগিতা করবে ।