রবিবার, ৮ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং ২৩শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ফের ছাত্রলীগের সংঘর্ষে চবি অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ঘোষণা

news-image

চবি প্রতিনিধি : পূর্বের ঘটনার জের ধরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে ফের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যার পর সিএফসি গ্রুপের দুই নেতাকে ভিএক্স গ্রুপের কর্মীরা কোপানোর পরই থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এসময় সুমন নাসির ও আব্দুল্লাহ আল রায়হান রাফিকে নামের দুই নেতাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়েছে ছাত্রলীগের একাংশ।

এদিকে, ছাত্রলীগের দুই নেতাকে কুপিয়ে আহত করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা সিরাজ উদ দৌলার পদত্যাগসহ অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে চবি ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক রুবেল ও তার অনুসারী গ্রুপ সিএফসি। এতে পুরো ক্যাম্পাসে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

রেজাউল হক রুবেল বলেন, তাপস হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িতরা আমাদের দুই ছাত্রনেতার উপর হামলা চালিয়েছে। ২৪ ঘন্টার মধ্যে দোষীদের গ্রেফতারের আল্টিমেটাম দেয়া হলো। অন্যথায় অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট চলবে।

জানা গেছে, গত কয়েক দিনের সংঘর্ষের জেরে রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে এ দুই নেতাকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন হাটহাজারীর এগারো মাইল এলাকায় কুপিয়ে জখম করে বগিভিত্তিক সংগঠন ভিএক্স। এ খবর ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রসহ মহড়া দিতে দেখা যায়। পরে এক পক্ষ অপর পক্ষকে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এসময় পুলিশ ও প্রক্টরের গাড়ি ভাংচুর করা হয়। এরপর থেকে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে।

শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক রুবেল গণমাধ্যমকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা তাপস হত্যার মদদদাতা সিরাজ উদ দৌলার প্রত্যক্ষ মদদে ও তাপস হত্যার আসামিরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আমাদের দুই নেতার উপর বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে। হামলাকারীদের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রেপ্তার করতে হবে।

প্রসঙ্গত, এর আগে গত ২৮ ও ২৯ নভেম্বর দুই দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় ১০ উভয় পক্ষের ১০ জন আহত হন। পুনরায় সংঘর্ষের সম্ভাবনা থাকায় ৩০ নভেম্বর সন্ধ্যার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি আবাসিক হলে তল্লাশি চালায় পুলিশ। এসময় বেশকিছু দেশীয় অস্ত্র ও পাথর উদ্ধার করলেও কাওকে আটক করেনি পুলিশ।