রবিবার, ১৫ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং ৩০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সাব রেজিস্ট্রার অফিসের পিয়নের ৩ স্ত্রী, তিন ফ্ল্যাট-বাড়ি

news-image

নিউজ ডেস্ক : ব্রাহ্মণবাড়িয়া সাব রেজিস্ট্রার অফিসের পিয়ন ইয়াছিন মিয়া (৪৫) নিখোঁজের ঘটনা জেলা শহরে টক অব দ্য টাউনে পরিনত হয়েছে। রেজিস্ট্রি অফিসে অডিটের (নিরীক্ষণ) পর চালান জমা দেয়ার নামে অন্তত কোটি টাকার ঘাপলার অভিযোগ পাওয়া গেছে এ ব্রাহ্মণবাড়িয়া সাব রেজিস্ট্রার অফিসে।

এঘটনা জানাজানি হলে ওই অফিসের কর্মচারী মো. ইয়াছিন মিয়া পালিয়ে গেছেন। ব্যাংকের ভুয়া চালান রশিদ তৈরি করে ইয়াছিন মিয়া টাকা আত্মসাত করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে ওই আত্মসাতের পরিমাণ ঠিক কত টাকা সেটি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে ২০১৪সাল থেকে এই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন ইয়াছিন। আত্মসাৎ হয়ে থাকতে পারে বিপুল অংকের অর্থ।

পিয়ন ইয়াছিন নিখোঁজের ঘটনায় শুক্রবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাব রেজিস্ট্রার সদর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। সাধারণ ডায়েরির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে উপ-পরিদর্শক সুমন চক্রবর্তীকে।

সাধারণ ডায়েরির পর ইয়াছিনের প্রথম স্ত্রী সাজেদা বেগমকে শুক্রবার রাতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়। সর্বশেষ শনিবার বিকেলে থানার ডিউটি অফিসারের কক্ষে ইয়াছিনের প্রথম স্ত্রী, ইয়াছিনের পিতা মোহন মিয়া ও মাকে বসিয়ে রাখতে দেখা গেছে।

ইয়াছিনের প্রথম স্ত্রী সাজেদা বেগম জানায়, ইয়াছিন মিয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার মরিচাকান্দির আতুয়াকান্দির হাজী মোহন মিয়ার ছেলে। ইয়াছিনের সাথে তার বিয়ে হয় প্রায় ২৫বছর আগে। তখন তার কোন চাকুরী ছিল না। বিয়ের দুই বছর পর ইয়াছিনের পিয়নের চাকরি হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সাব রেজিস্ট্রার অফিসে।

তারপর গত ২৩ বছরে তাকে আশুগঞ্জ ও নাসিরনগরে বদলী করা হলেও ঘুরেফিরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সাব রেজিস্ট্রার অফিসেই চাকরি করে যাচ্ছেন। সাব রেজিস্ট্রার অফিসে ছিল তার দাপদ। বেশির ভাগ সময়ে সাব রেজিস্ট্রারদের কাছে থাকায় অবৈধ টাকা কামানো তার নেশায় পরিনত হয়ে যায়। প্রথম স্ত্রীকে পিয়ন ইয়াছিন পৌর এলাকার ভাদুঘরে ৪শতাংশ জায়গার উপর তৈরি করে দিয়েছেন ৩ তলা বাড়ি। যার মূল্য কোটি টাকার উপরে। মাস কয়েক আগে বড় ছেলেকে পাঠিয়েছেন ফ্রান্সে।

প্রথম স্ত্রী সাজেদাকে বিয়ে করার ১০ বছর পর আকলিমা নামের এক বিধবা নারীকে এক কন্যা সন্তান সহ ২য় বিয়ে করেন পিয়ন ইয়াছিন। ওই কন্যা সন্তান বড় হওয়ার পর ইতালি প্রবাসীর কাছে বিয়ে দেওয়া হয়েছে। ওই মেয়ের স্বামীর সাথে যৌথভাবে জেলা শহরের পাইকপাড়ায় ৬তলা বিশিষ্ট একটি বাড়ি নির্মাণ করেছেন।

২য় স্ত্রী আকলিমাকে বিয়ে করার ৫বছর পর এক প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে পরকিয়ায় লিপ্ত হয়ে পড়ে ইয়াছিন। পরে প্রবাসীকে ফেলে চলে আসলে ওই নারীকে বিয়ে করেন ইয়াছিন। ইয়াসিন ছোট স্ত্রীকে নিয়ে শহরের মুন্সেফপাড়ায় নিজের কেনা ফ্লাটে বসবাস করতেন। ইয়াছিন নিখোঁজ হওয়ার পাশাপাশি তার ছোট স্ত্রীরও খোঁজ মিলছেনা।

ইয়াছিনের পিতা হাজী মোহন মিয়া জানান, আমার চার ছেলে সন্তান। কোন মেয়ে সন্তান নেই। এর মধ্যে ইয়াছিন সবার বড়। আমার সাথে তার তেমন কোন যোগাযোগ নেই। আমি অন্য ছেলের সাথে কলেজপাড়াতে বসবাস করি। আমার জানা মতে সে তিনটি বিয়ে করেছে। এর বেশি বিয়ে করে থাকলে জানা নেই।