শুক্রবার, ৬ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং ২১শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

যেনে নিন কে এই বজলুর-মান্নাফী-কচি-হুমায়ুন

news-image

ডেস্ক রিপোর্ট : আওয়ামী লীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি নিবার্চিত হয়েছেন মান্নাফী, সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন হুমায়ুন ক‌বির। আর ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছে বজলুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন এস এম মান্নান কচি।

শনিবার (৩০ নভেম্বর) বিকালে রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে কাউন্সিলের মাধ্যমে তাদের নির্বাচিত করা হয়।

এদিন সকাল ১১টায় ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সম্মেলনের উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এদিকে মহানগরের দুই সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন জেগেছে। অনেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশ্ন ছুঁড়েছেন, এরা কারা?

জানা গেছে, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নবনির্বাচিত সভাপতি আবু আহম্মদ মান্নাফী ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার বিদায়ী কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ১৯৪৮ সালে জন্মগ্রহণ করা আবু আহম্মেদ মান্নাফীর পারিবারিক আদি নিবাস কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর। তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেন এবং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

১৯৯৫ সালে রাজধানীতে মেয়র হানিফের নেতৃত্বে জনতার মঞ্চে নেতৃত্ব দেন মান্নাফী। ১৯৬৭ সালে বর্তমান ওয়ারী থানা তখন ওয়ারী ইউনিয়ন পরিষদে অন্তর্ভুক্ত ছিল, আবু আহমেদ মান্নাফী সেই ওয়ারী ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রাজনীতির নেতৃত্বে আসেন। ১৯৯২ সালে থেকে তিনি সূত্রাপুর থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং পরবর্তীতে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু আহম্মেদ মান্নাফী।

তার সঙ্গে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন হুমায়ুন ক‌বির। তিনি গত কমিটিরও সহ-সভাপতি ছিলেন। আওয়ামী লীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নতুন সাধারণ সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে লালবাগের কাউন্সিলরের দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘদিনের এই কাউন্সিলর ২৪ বছর বৃহত্তর লালবাগ-চকবাজার-কামরাঙ্গীরচর-হাজারীবাগ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগ থেকে অনার্স এবং মাস্টার্স ডিগ্রিধারী হুমায়ুন কবিরের পুরো পরিবারই উচ্চশিক্ষিত। তার একমাত্র ছেলে রেজাউল কবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসা প্রশাসন ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক। তার দুই মেয়ে মেডিকেল কলেজের ছাত্রী। বঙ্গবন্ধুর পুত্র শেখ কামালের হাত ধরেই ছাত্রলীগের রাজনীতি শুরু করেন হুমায়ুন কবির। ১৯৬৮ সালে ঢাকা কলেজে পড়াকালীন সময়ে ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন।

অন্যদিকে ঢাকা মহানগর উত্তরের নবনির্বাচিত সভাপতি শেখ বজলুর রহমান ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ থেকে শুরু করে মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, অবিভক্ত ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। গত কমিটিরও তিনি সহ-সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন।

আর তার সঙ্গে সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন এস এম মান্নান কচি। মূলত তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতি দিয়ে আগমন করেন। বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি একজন গার্মেন্টস ব্যবসায়ী এবং পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সহ সভাপতি। এস এম মান্নান কচি ১৯৮৩-৮৪ সালে বৃহত্তম মিরপুর থানা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। পরে অবিভক্ত ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের সহ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালে অবিভক্ত ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যকরী সদস্যসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। সর্বশেষ আগের কমিটির এক নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাকদ ছিলেন কচি।