রবিবার, ১৫ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং ৩০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

আমরা স্বার্থপর, তাই গুজবে কাবু হই

news-image

Khaled Muhiuddin

খালেদ মুহিউদ্দীন, প্রধান, ডয়চে ভেলে বাংলা বিভাগ

পেয়াঁজ নিয়ে হাহাকারের পর এবার লবণ৷ যদিও সরকার প্রেসনোট দিয়ে জানাচ্ছে আমাদের যা দরকার তার থেকে কয়েকগুণ লবণ মজুদ রয়েছে৷

কিন্তু আমার মনে হয় না আমরা সরকারের কথায় বিশ্বাস করছি৷ সরকারের বা অন্য ক্ষমতাশালীদের কথা বাদ দিন৷ আমরা নিজেরা ইদানীং নিজেদেরই বিশ্বাস করতে পারি না৷ লবণের কথাটাই ধরা যাক৷ মনে করুন সত্যি সত্যি একটা লবণের সংকট হয়েছে, আমাদের কি এমন কোনো প্রতিবেশি বা আত্মীয়-স্বজন নেই যে আমাকে এক চিমটি লবণ দেবে?
মনে হয় নেই, আমাদের কাছে লবণ থাকলে আমরাও নিশ্চয়ই দেবো না৷ মনে মনে নিজেকে বাহবা দোবো, বাহ কী বুদ্ধিমান আমি৷ ১০ কেজি কিনেছি লবণের কথা শোনার সঙ্গে সঙ্গে৷ এখন আমি আর আমার পরিবার শুধু লবণ কিনবো বাকি সবাইকে শিখিয়ে দেবো লবণ ছাড়া রান্না৷ কী মজাই না হবে!

এ কথা বলছি, কারণ, আবার আমরা আমাদের কথায় ফিরে আসি৷ ধরেন লবণের সংকট, তাই দাম বেড়ে গেছে বা যাচ্ছে৷ কিন্তু আমি কেন ১০ কেজি বা পাঁচ কেজি লবণ কিনছি৷ কোনো কিছুর সংকট হলে তো আমার তা কম কেনা উচিত, যাতে করে অন্যেও তা কিনতে পারে৷ আমরা যে বাজার খালি করে নিজেদের ভাঁড়ার পূর্ণ করতে চাচ্ছি, আমাদের এ মানসিকতার কারণ কী? এর উৎস কোথায়? আমরা কেন এত স্বার্থপর?

ব্যবসায়ীদের কথায় আসি৷ ভাই বা বোন, আপনাদের সমস্যাটা কী? আপনারা কি সাধারণ অবস্থাতে কোনো লাভই করেন না? সারাক্ষণই পানি কোনোভাব ঘোলা হওয়ার অপেক্ষা করতে হয় আপনাদের? রমজানে বেগুনি বেশি খাওয়া হয় বলে বেগুনের দাম বাড়িয়ে দেন, পেয়াঁজের সরবরাহ কমে গেলে কেনা দামের পাঁচ গুণে বেচেন, মোবাইল ফোনের দাম তার কলের দাম কয়েকগুণ রাখেন যতদিন পারেন৷ এগুলো কেমন ব্যবসা? কোনো সৃজনশীলতা নাই, বুদ্ধিমত্তা নাই, পরিশ্রম নাই, খালি ব্ল্যাকমেইলিংই সত্য?

তবে আমরা যদি নিজেদের স্বার্থপরতা থেকে বেরিয়ে আসি, তবে গুজব আমাদের কাবু করতে পারবে না বলেই আমার বিশ্বাস৷